kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিমা বিসর্জন

কক্সবাজার ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সম্প্রীতির বন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজার সমাপনীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার লোকজনের ঢল নেমেছিল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও সন্ধ্যায় হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয় শতাধিক প্রতিমা।

বিসর্জন উপলক্ষে গতকাল দুপুর থেকেই কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে পূজারিরা সমবেত হতে থাকে সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টের বালিয়াড়িতে।

একই অবস্থা ছিল বন্দরনগর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। গতকাল পূজারিরা দুপুর থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানগাড়িতে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকে সমুদ্রসৈকতের দিকে। আর সিলেটে ঢল নেমেছিল সুরমার পাড়ে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের পাশাপাশি এসেছিল নানা বয়সী, শ্রেণি, পেশার মানুষ; যেন সম্প্রীতির বন্ধন।

ঢোল, তবলা, বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তারা একে অপরকে রং ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। বর্ষণমুখর বিকেল ৫টার মধ্যেই সৈকতের লাবনী পয়েন্টের এক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরাও এ সময় ভিড় করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতের মুক্ত মঞ্চে জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের এ অনুষ্ঠান এ দেশের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান। আর এ বিসর্জন অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে লাখো মানুষের মিলনমেলা আরো একবার প্রমাণ করে এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রণজিৎ দাশ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, নারী নেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমদ, পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান জিসান উদ্দিন, প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন ও বাবুল শর্মা।

পতেঙ্গা সৈকত : প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুর্গতিনাশিনী দেবী ‘মা দুর্গা’কে বিদায় জানাতে পতেঙ্গা সৈকতে আসে নানা বয়সী, শ্রেণি, পেশার মানুষ ও ভক্তরা। এ সৈকতে প্রথম বিসর্জন দেওয়া হয় ডবলমুরিং থানার দেওয়ানেশ্বরী কালীমন্দিরের প্রতিমা। দুপুর আড়াইটার মধ্যে ১০টি প্রতিমা সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দ পাল অরুণ গতকাল সন্ধ্যায় জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বির্সজন সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট কালুরঘাট, অভয়মিত্রঘাট, গঙ্গাবাড়ী, কাট্টলির রাসমনিঘাট, জেলার মন্দাকিনীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

সুরমায় বিসর্জন : সুরমায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল সিলেটে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে সুরমা নদীর চাঁদনী ঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জন শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।


মন্তব্য