kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনা জেনারেল হাসপাতাল

অবকাঠামো ও জনবলে নিজেই অসুস্থ

কৌশিক দে, খুলনা   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবকাঠামো ও জনবলে নিজেই অসুস্থ

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ভবনে ঝুলছে সতর্কবাণী। তার পরও এখানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মূল সড়ক পেরিয়ে চত্বরে প্রবেশ করতেই ইট-সুরকি ওঠা পিচের ছোট পথ। একটু দূরে জরাজীর্ণ আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) দপ্তর।

ভবনটির পলেস্তারা উঠে গেছে অনেক আগেই। ফাটলও ধরছে কোথাও কোথাও। পুরনো ও পরিত্যক্ত আরো চার-পাঁচটি ভবন থাকলেও এর দু-তিনটিতেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যেকোনো সময় ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে। এ চিত্র খুলনার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের বাইরের। ভেতরের অবস্থা আরো ভয়াবহ। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শত চিঠি চালাচালি, আকুতিতেও হাসপাতালের জনবল, অবকাঠামো পূর্ণতা পায়নি। ফলে খুলনার হাজারো মানুষ চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ভৈরব নদের তীরের খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালটি সবচেয়ে পুরনো। সার্জারি, চক্ষু, মেডিসিন, অর্থোপেডিক ও গাইনি চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালটি শত বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই। দীর্ঘদিনে সংস্কার না হওয়ায় অবকাঠামো ও জনবল সংকটে অনেকটাই অস্তিত্ব হারাতে বসেছে একসময়ের খুলনা ও আশপাশ এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা এ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালটি ১৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল ও অবকাঠামো বাড়েনি। উল্টো বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েছে পড়েছে অধিকাংশ ভবন। একসময়ের গাইনি বিভাগের দুইতলা ভবন প্রায় ১৩ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে গণপূর্ত বিভাগ। আরো কয়েকটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, পরিত্যক্তগুলোরও মেরামত হয়নি। তার পরও এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে পুরুষ, মহিলা ও শিশু মিলিয়ে ৬০০-৭০০ জন চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।

সিভিল সার্জন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে ৩৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের পদটি শূন্য। গাইনি বিভাগটিও এখন চিকিৎসকশূন্য। নার্সিং স্টাফের ১৫৫টি পদের মধ্যে ২৮টি, তৃতীয় শ্রেণির ২৪টির মধ্যে ৯টি, চতুর্থ শ্রেণির ৫৬ পদের মধ্যে শূন্য ১৩টি। সুইপারদের মধ্যে বেশির ভাগই বার্ধক্যজনিত কারণে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘হাসপাতালটি নিয়ে আমরা বিপদে রয়েছি। এখানে চাকরি করতে আসাও অভিশাপ। রোগীদের সেবা দেওয়ার ন্যূনতম ইচ্ছা থাকলেও জনবল, অবকাঠামোগত কারণে তা সম্ভব নয়। হাসপাতাল স্বাস্থ্য বিভাগের আর ভবন গণপূর্তের। ভবনের বেহাল অবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা চিঠি চালাচালি করলেও কোনো কাজ হয়নি। একবার তিন সচিব খুলনা সফরকালে এ হাসপাতালের জন্য সাড়ে ৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাও এগোয়নি। ’

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা দিচ্ছি। এখানকার বড় সমস্যা জনবল ও অবকাঠামো। গণপূর্ত বিভাগকে একাধিকবার অবকাঠামো বিষয়ে লিখিতভাবে সমস্যার কথা জানালেও কোনো কাজ হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করছেন। ’  

খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের বড় সমস্যা অবকাঠামো। অধিকাংশ ভবনই এখন ব্যবহার অনুপযোগী। অথচ এ বিষয়ে একাধিকবার গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে, কিন্তু তার কোনো সুফল পাইনি। আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ’


মন্তব্য