kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য

চার জঙ্গির সব কাজে সহযোগী ছিল স্ত্রীরাও

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গির বাসায় আস্তানা গড়ে উঠেছিল তাদের স্ত্রীদের সহায়তায়। পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ আর হামলায়ও ওই চার জঙ্গি সহায়তা পেয়েছে স্ত্রীদের।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই চার নারী এমন তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে। সিটিটিসি ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই চার নারী হলো গুলশানে হামলার অন্যতম হোতা নুরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী প্রিয়তি ওরফে আফরিন, জঙ্গি বাশারুল্লাহ ওরফে চকলেট ওরফে রাহুলের স্ত্রী শায়লা আফরিন ওরফে আফরিন, আজিমপুরে অভিযানে নিহত জঙ্গি করিম ওরফে শমসের উদ্দিন ওরফে জামশেদ ওরফে তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা এবং আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত আব্দুর রহমান ওরফে নাজমুল হক ওরফে বাবুর স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমি। এরা সিটিটিসি ইউনিটের রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) রয়েছে।

জানতে চাইলে সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজিমপুর থেকে ধরা পড়া তিন নারী তাদের স্বামী ও অন্য জঙ্গিদের সহযোগিতা করেছে। তাদের বাসায় বৈঠক হয়েছে। অপারেশনের পরিকল্পনা হয়েছে। এ ছাড়া তারা নিজেরা পরিকল্পনায় কতটুকু জড়িত, তা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ’

নারী জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদকারী এক কর্মকর্তা জানান, গুলশানে হামলার আগে বারিধারায় যে বাসায় থাকতেন নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরী, সেখানে আগত সবাইকে রান্না করে খাওয়ানোর কাজ করত মারজানের স্ত্রী প্রিয়তি ওরফে আফরিন। একইভাবে আজিমপুরের বাসায়ও তানভীর কাদেরীর স্ত্রী শারমিন, জঙ্গি বাশারুল্লাহর স্ত্রী শায়লা আফরিন জঙ্গিদের রান্না করে খাওয়ানো থেকে শুরু করে নানা কাজে সহযোগিতা করত। সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নারী জঙ্গিদের সংগঠিত করার পরিকল্পনাও করা হতো। জঙ্গিদের অস্ত্র-সরঞ্জাম লুকিয়ে রেখে দেখাশোনা করত ওই নারী জঙ্গিরা। আশুলিয়ার বাসা থেকে মাঠপর্যায়ের জঙ্গিদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করত নব্য জেএমবির অর্থের জোগানদাতা আব্দুর রহমান। সে কখনো বাসায় না থাকলেও মাঠপর্যায়ের জঙ্গিদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিত তার স্ত্রী শাহনাজ। আশুলিয়ার বাসায় নব্য জেএমবির অনেক গোপন বৈঠকও হতো। রিমান্ডে শাহনাজ বলেছে, স্বামীর অর্থ সে আলমারিতে লুকিয়ে রাখত। তবে তার স্বামী এসব টাকা কোন কোন মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করত, তা তাকে জানাত না।

সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, দেরিতে হলেও জঙ্গিবাদে জড়ানো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করছে চার নারী। তারা এখন অনুভব করছে, জঙ্গিবাদ অভিশাপ। স্বামীর প্ররোচনায় না পড়ে বাস্তবতার নিরিখে স্বাভাবিক জীবন বেছে নিলে এই পরিণতির সম্মুখীন হতে হতো না তাদের।

ওই নারীদের মধ্যে তানভীরের স্ত্রী ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে লেখাপড়া শেষ করে সেভ দ্য চিলড্রেনে চাকরি করত। তানভীরও জঙ্গিবাদে জড়ানোর আগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং শাখায় উচ্চ পদে ছিল।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে তিন নারী জঙ্গিকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের রিমান্ডে নেয় সিটিটিসি ইউনিট।


মন্তব্য