kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুলশান হত্যাযজ্ঞ

‘ও’কিচেন নামে আর রেস্তোরাঁ খুলব না’

সরোয়ার আলম   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ও’কিচেন নামে আর রেস্তোরাঁ খুলব না’

গুলশানের হলি আর্টিজান। ছবি : কালের কণ্ঠ

জঙ্গি হামলার ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি। গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কে একই ভবনের নিচতলায় চালানো হতো বেকারি, ওপরের তলায় ছিল ও’কিচেন নামের রেস্তোরাঁ।

গত ১ জুলাইয়ের হামলার পর এটি তছনছ হয়ে গেছে। হামলার পর ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে ১০০ দিন। রেস্তোরাঁটির মালিক আলী আর্সেনাল বলছেন, তদন্ত সংস্থা গুলশান হত্যাযজ্ঞের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট বা বেকারি চালু করার নির্দেশ দিচ্ছে না। আর আপাতত এ ব্যবসাও করবেন না তিনি; যদিও বছর দুয়েক পর রেস্তোরাঁটি চালু করার ইচ্ছা আছে। সেটা অন্য কোথাও হতে পারে। তবে হলি আর্টিজান নামটি থাকলেও ও’কিচেন নামটি আর ব্যবহার করবেন না।

আলী আর্সেনাল গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গি হামলার স্থানে আর ব্যবসা করার ইচ্ছা নেই। অন্য কোনো স্থানে ব্যবসা করব। ’

হলি আর্টিজান বেকারি ও ও’কিচেন রেস্তোরাঁটি এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচজন পুলিশ সদস্য রেস্তোরাঁ ভবনটি ঘিরে রেখেছেন। কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার বাসিন্দারা বলেছে, জঙ্গি হামলার আগে দিনে-রাতে মুখর থাকত হলি আর্টিজান। জঙ্গিরা সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। এখন সন্ধ্যা নামলে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয় এ এলাকায়।

রেস্তোরাঁর মালিক বলেন, ‘জঙ্গি হামলার পর মুষড়ে পড়েছিলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, দেশের বাইরে চলে যাব। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের কথায় সিদ্ধান্ত পাল্টেছি। জঙ্গি নিধন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক সফলতা দেখাচ্ছে। তাদের এ সফলতায় আশার আলো দেখছি। জঙ্গি হামলার পর আমার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। দেশের স্বার্থে সব কিছু মেনে নিয়েছি। তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। বেকারি ও রেস্টুরেন্টটি খুলে দিতে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খোলা হবে না। ভবিষ্যতে ব্যবসা করলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছি ও’কিচেন রেস্টুরেন্টের নাম পরিবর্তন করা হবে। এ নাম থাকলে কেউ ভয়ে আসবে না। বছর দুয়েক পর রেস্টুরেন্টের নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে ব্যবসা করব। তবে হলি আর্টিজান নামটি থাকবে। ’   

গতকাল ঘটনাস্থলে গুলশান জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, উত্সুক লোকজন প্রতিদিনই রেস্তোরাঁটি দেখতে ভিড় জমায়। তবে কেবল তদন্ত সংস্থার সদস্য ও বিদেশিদেরই (অনুমতি সাপেক্ষে) ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশান হত্যাযজ্ঞের তদন্তে প্রায় ২৫ হামলাকারীর নাম এসেছে। ইতিমধ্যে সাত হামলাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা গেছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ ও র‌্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।  

গত ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারি ও ও’কিচেন রেস্তোরাঁয় ঢুকে হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। ১৭ বিদেশি নাগরিক, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তারা ২২ জনকে হত্যা করে। পরদিন সকালে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্ত করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনো যারা ধরা পড়েনি তাদের মধ্য অন্যতম চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া ও নব্য জেএমবির নেতা মারজান অন্যতম।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিটিসির এক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে অনেক কিছুই পাওয়া গেছে। দেশি-বিদেশিদের চক্রান্তে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে। হামলার পর ঢাকাসহ সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। অর্থের জোগানদাতা থেকে শুরু করে অস্ত্র সরবরাহকারী, হামলার মাস্টারমাইন্ড, গ্রেনেড সরবরাহকারীদের নাম, হামলাকারীদের কারা প্রশিক্ষণ দিয়েছে, কোথায় প্রশিক্ষণ হয়েছে এবং হামলার সমন্বয়কসহ বিস্তারিত রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী ও জিয়া সবচেয়ে বেশি কলকাঠি নেড়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কানেকশন ছিল। ইতিমধ্যে তামিম চৌধুরী পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা গেছেন।


মন্তব্য