kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিয়ানমারে সংঘাত চলছে

অনুপ্রবেশকারী দুজনকে হস্তান্তর করল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে সংঘাত চলছে। গতকাল মঙ্গলবারও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্রোহীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যবাহী দুটি যানে হামলা চালায় এবং এতে বহুসংখ্যক হতাহত হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্রোহীরা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার ভোরে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি রাখাইন রাজ্যে বিজিপির তিনটি ছাউনিতে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এরপর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই রাজ্যে সেনা পাঠায়। সেখানে ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে।   

এদিকে গতকাল দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে থাকা মিয়ানমারের দুই নাগরিককে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কক্সবাজারে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তানভীর আহমেদ খান জানিয়েছেন, গত রবিবার ভোরে মিয়ানমারে বিজিপি ছাউনিতে হামলার ঘটনার পর এই দুজন নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। তখন তাঁরা বিজিবি সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। মিয়ানমারের এই দুই নাগরিক হলেন—মংডু থানার নাগাকুড়া (নাকপোড়া) এলাকার বশির আহমদের ছেলে আনোয়ার কামাল ও নুরুল ইসলামের ছেলে মো. ইউসুফ।

ঘটনার দিন সকালে তাঁরা ক্ষেতে কাজ করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বলে দাবি করেছেন। ওই দিনই তাঁদের বিষয়ে বিজিপি ও বিজিবির মধ্যে যোগাযোগ হয়। বিজিপি আহত অবস্থায় সীমান্ত পার হওয়া বা অন্য কোনোভাবে অনুপ্রবেশ করা সে দেশের নাগরিকদের আশ্রয় না দিতে বিজিবিকে অনুরোধ জানিয়েছিল।

গতকাল মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে টেকনাফ স্থলবন্দরের কাছে জেটি এলাকায় নাফ নদীর শূন্য রেখায় আসে। টেকনাফে বিজিবি-২ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদের তত্ত্বাবধানে বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল গিয়ে মিয়ানমারের ওই দুই নাগরিককে হস্তান্তর করে।

এদিকে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে গতকাল পাওয়া খবরে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে তিন দিন ধরে টানা সংঘর্ষের ঘটনায় বাস্তবে কারা জড়িত সেটা এখনো নিশ্চিত করে কেউ বলছে না। ইতিমধ্যে জানা গেছে, সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘আরাকানি বাহিনী’ (বিদ্রোহী) ও ‘সরকারি বাহিনী’র মধ্যেই সংঘর্ষ চলছে। ‘আরাকানি বাহিনী’ নামে পরিচিত বিদ্রোহীদের অবস্থান নাফ নদের ওপারে নাককুড়া, নাশাফুরু, বলিবাজার, সাহেব বাজার, খেয়ারিপ্রাংসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। পাহাড় থেকেই সমতলে চলাচলের সময় সরকারি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও তাঁদের যানবাহনের ওপর হামলা চালাচ্ছে তারা।

এই সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। এ কারণে বাংলাদেশে আটকা পড়েছে মিয়ানমারের প্রায় দুই শ নাগরিক। অন্যদিকে সে দেশে আটকা পড়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে ২০ জন সোমবার ফেরত এসেছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের নাগরিকরা স্বদেশে ফিরতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ বন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের দায়িত্বরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আনোয়ার জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া বৈরী না থাকলে আজ বুধবার সকালে তাদের ফেরত পাঠানো হতে পারে।


মন্তব্য