kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গোপনে গ্যাস সংযোগ এনামুলের ভাইয়ের সিএনজি স্টেশনে

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গোপনে গ্যাস সংযোগ এনামুলের ভাইয়ের সিএনজি স্টেশনে

রাজশাহীতে বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে দুই বছর ধরে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও গ্রাহকরা সংযোগ পাচ্ছে না।

বিশেষ করে গ্যাসের অভাবে উত্পাদনমুখী কারখানাগুলো চালু করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। অথচ এরই মধ্যে গোপনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলো একটি সিএনজি (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস) স্টেশনে। নগরীর খড়খড়ি কেচুয়াথৈল এলাকার ওই সিএনজি স্টেশন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হকের ভাই নাজমুল হকের। ছয় বছর আগে সেটি অনুমোদন পেয়েছিল। গত সোমবার পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানির রাজশাহী অফিস সরকারের কোনো সংস্থাকে না জানিয়েই সেখানে ওই সংযোগ দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।       

স্থানীয়রা বলছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ভাই—এ পরিচয়ের কারণেই সরকারি সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে ওই সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় ৬০০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহৃত হবে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে। অথচ রাজশাহীর শিল্প খাতে গ্যাসের সংযোগ চেয়ে আবেদনের পর পুরো প্রক্রিয়া শেষ করেও এখনো সংযোগ পাননি এমন উদ্যোক্তার সংখ্যা অন্তত সাত। গ্যাসের অভাবে তাঁরা উত্পাদনমুখী কারখানা চালু করতে পারছেন না। খড়খড়ি এলাকায় (আমচত্বর-বেলপুকুর বাইপাসের দক্ষিণ পাশে) অবস্থিত সিএনজি স্টেশনটির নাম এনবি ফিলিং স্টেশন। নজমুল হকের সঙ্গে তাঁর ভাগ্নে সিরাজুল ইসলাম বিপ্লবও সেটির মালিক। সিরাজুল সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানির রাজশাহী কার্যালয় সূত্র জানায়, এনামুল হক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের শেষের দিকে এনবি ফিলিং স্টেশনকে সিএনজি স্টেশনের জন্য অনুমোদন নিয়ে দেন। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোর পর সিএনজি স্টেশনটি চালু নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তবে সম্প্রতি সিএনজি স্টেশনটিতে গ্যাসের সংযোগ দিতে তড়িঘড়ি শুরু করে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি। গত সোমবার অনেকটা গোপনে সেখানে সংযোগ দেওয়াও হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি রাজশাহী অফিসের ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এনবি ফিলিং স্টেশনে সিএনজি গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, রাতের মধ্যেই কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এরপর সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছামতো যানবাহনে গ্যাস বিক্রি করতে পারবে।

তবে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানির রাজশাহীর ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনবি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগের ফাইলপত্র অনেক আগ থেকেই অনুমোদন ছিল। এ কারণে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। আগে অনুমোদিত থাকায়  সেখানে সংযোগ দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তারা সিএনজি স্টেশনটি চালু করবে, সেটা তাদের বিষয়। ’

কোনো চাপের মুখে সেখানে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়নি দাবি করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পানি থেকে সকল কাগজপত্রের অনুমোদন থাকায় সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ’ কিন্তু টাকা জমা নেওয়ার পরও, এমনকি সব কাগজপত্র অনুমোদিত থাকা অন্য সাতটি শিল্প-কারখানায় কেন গ্যাসের সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না—জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি আমার সিদ্ধান্ত নয়, কম্পানির সিদ্ধান্ত। ’

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানির আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের মালিকানাধীন স্টেশনকে অনুমতি দিতে আমরা শুধু সুপারিশ করেছি মাত্র। বাকি কাজ করেছে গ্যাস সংযোগ কমিটি। ওই কমিটিই প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানটিকে সিএনজি স্টেশনের অনুমতি দিয়েছে। গ্যাস সংযোগ কমিটির কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরও ওই প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি ধাপে বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে বলা হয়। এসব শর্ত পূরণ হওয়ার পরেই আমরা সেখানে সিএনজি গ্যাসের সংযোগ দিয়েছি। ওই সিএনজি স্টেশনটি গ্যাসের সংযোগের অনুমোদন পায় ২০১১ সালে। ’ রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি সূত্র মতে, ২০১৩ সালের ৭ জুন রাজশাহীতে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ উদ্বোধন করা হয়। এরও আগে ২০১১ সালে নগরীতে সিএনজি স্টেশনের জন্য আবেদনপত্র নেওয়া হয়।


মন্তব্য