kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি

আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন কমিটি পুনর্বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিতে ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩’ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনের দুই সপ্তাহের মাথায় সরকার চার বছর আগে গঠিত ‘বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন’কে পুনর্বহাল করল। এর মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা আহমদ শফী ও তাঁর অনুসারীদের আবার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলো।

কমিশনের মেয়াদ আগামী বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইনের স্বাক্ষরে গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান এবং ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে কো-চেয়ারম্যান করে ২০১২ সালে ১৭ সদস্যের কমিশন গঠন করে সরকার। কিন্তু স্বতন্ত্র ধারায় পরিচালিত কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মাওলানা আহমদ শফী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে কো-চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশন রিপোর্ট প্রদান করে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিলেও মাওলানা আহমদ শফী ও তাঁর অনুসারীদের বিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদানের জন্য ১৭ সদস্যের কমিশনের মধ্য থেকে ৯ সদস্য নিয়ে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে। তবে এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেন মাওলানা আহমদ শফী ও তাঁর অনুসারীরা। এ অবস্থায় সরকার তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটিকেই আবার পুনর্বহাল করল। কিন্তু এর ফলে পর্যালোচনা কমিটির অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘পর্যালোচনা কমিটির মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হবে। আমরা চাই কমিশন জীবিত থাকুক, কাজ করুক। ’ পর্যালোচনা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ওই কমিটির সদস্যরাই তো কমিশনে ছিলেন। এখন কমিশনই জীবিত হলো। তাঁরা কমিশনে কাজ করবেন।


মন্তব্য