kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনা বাড়ছে

ওমর ফারুক   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ নানা কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে যথেষ্ট টানাপড়েন চলছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বৈঠকের পর ইঙ্গিত মিলছে সম্পর্ক উন্নয়নের।

দুই দেশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সেভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ফলে ইয়াবা, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ নানা বিষয়ে সমাধানের রাস্তা খ্ুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে দেশের সরকার পরিবর্তনের পর দুই পক্ষ থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ’

সূত্র জানায়, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের জলসীমায় চলে আসার কারণে মিয়ানমারের প্রায় অর্ধশত জেলেকে বিভিন্ন সময় আটক করা হয়েছে। তারা এ দেশের কারাগারে বন্দি। দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে আগামী ২২ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সেকেন্ড ইন কমান্ডের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে। তারা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে বৈঠক করবে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালোর দিকে যাচ্ছে। যেটি দুটি দেশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তাদের সীমান্ত বাহিনীর কর্মকর্তারা আসছেন আমাদের সঙ্গে বৈঠক করতে। সেখানে সীমান্তের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। ’

সংশ্লিষ্টরা জানায়, মিয়ানমারে রাজনৈতিক সমস্যার কারণে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে অহরহ। আবার সে দেশে উত্পাদিত ভয়ংকর মাদক ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক সমস্যা নিরসনে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও সাড়া দিচ্ছিল না মিয়ানমার। অতীতে অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সীমান্তে সংঘাত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। গত বছর নভেম্বরে মিয়ানমারে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বৈঠক হয়।   এরপর থেকে সরকারি পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের গতি বাড়ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমারে বিমসটেকের বৈঠকে আমরা ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে। আশা করি ইয়াবা সমস্যার সমাধান হবে। ’


মন্তব্য