kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইকোর্টের নির্দেশ

মাদারীপুরে ২০০ বছরের পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও মাদারীপুর প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে বন্ধ হলো মাদারীপুর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাটের কাজ। এতে স্থানীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ পুকুর ভরাট বন্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুকুরটিতে ফের মাটি ও বালু ভরাট এবং স্থাপনা নির্মাণের ওপর দুই মাসের স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুকুরটি রক্ষার নির্দেশনা চেয়ে বেসরকারি সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট আবেদন করে। এরপর গতকাল প্রাথমিক শুনানি শেষে এসব আদেশ দেওয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিট আবেদনের ওপর শুনানি করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রয়োগ), মাদারীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা কর্মকর্তা, সদর থানার ওসিকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি পুকুর ভরাট বন্ধে ব্যর্থতাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে ঘোষণা দেওয়া হবে না এবং ওই পুকুর ভরাট করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রয়োগ), মাদারীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা কর্মকর্তা ও সদর থানার ওসিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সাইফুর রহমান খান, জাহিদুল ইসলাম ও তানভীর মাহমুদের খরচে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাঁদেরকেও রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই পুকুর ভরাট বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়। গত ৫ অক্টোবর কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘শতবর্ষী পুকুর ভরাট বন্ধের দাবি, মাদারীপুরে মানববন্ধন’ ও গত ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসককে দেওয়া পৌর মেয়র মো. খালিদ হোসেন ইয়াদের দেওয়া আবেদনপত্র যুক্ত করা হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এই পুকুর ভরাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রিট আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০ বছরের পুরনো পুকুর ভরাটসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জনস্বার্থে এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে পুকুরটি ভরাট করছেন বলে পত্রিকায় এসেছে। এখন হাইকোর্টের নির্দেশে এটি বন্ধ হবে। ’

পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ : এদিকে গতকাল হাইকোর্ট আদেশ দেওয়ার পরই পুকুর ভরাট বন্ধ করা হয়েছে। পুকুর ভরাটের সব সরঞ্জাম ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তিও ফিরে এসেছে। তাদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। মাদারীপুরের পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড নেচারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। আইনের মাধ্যমেই আজ পুকুর ভরাট বন্ধ হয়েছে। ওই এলাকার কয়েক শ হিন্দু পরিবার ও সাধারণ মানুষ খুবই খুশি। ’

মাদারীপুরের পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে জয় হয়েছে। আমরা আন্দোলনে সফল হয়েছি। সবাই এখন খুশি। ’

পুকুর ভরাট শুরু হওয়ার পর গত মঙ্গলবার থেকে মাদারীপুরের সর্বস্তরের মানুষ ও কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন শহরে মিছিল, সমাবেশ, অবরোধ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

উল্লেখ্য, পুকুরটি ভরাট বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে আগের দিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দও একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিটের ওপর এখনো শুনানি হয়নি।


মন্তব্য