kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাউজানে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় অনাগ্রহী পরিবার

গৃহকর্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও রাউজান প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামের রাউজান পৌর এলাকার চৌধুরীপাড়ায় তানজু আক্তার (১০) নামের এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আদিত্য নন্দী।

পরে পুলিশ গৃহকর্ত্রী আয়েশা আক্তারকে আটক করে।

নির্যাতিত শিশু তানজু আক্তার (১০) রাঙ্গুনিয়া রানীহাট এলাকার রেজাউল করিমের মেয়ে। আটক গৃহকর্ত্রী আয়েশা আক্তার চৌধুরীপাড়ার আবুধাবিপ্রবাসী মো. জাহেদের স্ত্রী। নির্যাতিত শিশুটির পরিবার মামলা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল বিকেলে পূজার ছুটিতে বাড়ি যাওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আদিত্য নন্দী ঢাকায় কালের কণ্ঠ’র এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে ঘটনাটি জানান। তিনি বলেন, ‘দুপুরে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে খোঁজখবর নিই। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে নির্যাতনকারীকে আটক করে। ’ তিনি জানান, মেয়েটি নির্যাতন সইতে না পেরে দেয়াল টপকে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে বলে জানিয়েছে।

শিশু তানজুর দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে উদ্ধার করার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আদিত্যসহ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেতা ইমরান আহমেদ ইমু ও অনুপ চক্রবর্তী হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। শক্ত লাঠি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করা হয় বলে ধারণা পুলিশের।

তানজু জানায়, পরিবারের অভাবের কারণে সে আয়েশা বেগমের বাসায় কাজ নেয়। ছোট কোনো ভুল হলে প্রায়ই তাকে আয়েশা মারধর করতেন। ঠিকমতো খেতে দিতেন না। তানজু বলে, ‘অন্য দিন মারধর সহ্য করলেও আর পারিনি। তাই বাড়ির দেয়ালে উঠে পালিয়েছি। ’

রাউজান থানার ওসি কেফায়েতুল্লাহ বলেন, তানজুর পরিবার খুব অভাবগ্রস্ত। এ জন্য আয়েশা বেগমের বাসায় কাজ করতে যায়। মারধরের অভিযোগ পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আয়েশা বেগমকেও আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভাবগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারটি লিখিত অভিযোগ দিতে গড়িমসি করছে।

গতকাল রাত ৯টার কালের কণ্ঠ’র রাউজান প্রতিনিধি থানায় গেলে তানজুর মা হাসিনা বেগম মামলা করতে অনাগ্রহের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, আয়েশা তাঁর দূর সম্পর্কীয় খালাতো বোন। এ জন্যই তিনি আয়েশার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। এ অবস্থায় অভিযুক্ত আয়েশাকে ছেড়ে দেওয়া কিংবা আদৌ মামলা হবে কি না—জানতে চাওয়া হলে ওসি বলেন, তানজুর মা মামলা না করলে তিনি নিজেই এজাহার দিয়ে মামলা করবেন। মেয়েটিকে মায়ের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হবে।


মন্তব্য