kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিংড়ির ব্যবসার আড়ালে নকল ওষুধের কারবার

খুলনায় শিল্পপতি গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুলনায় হিমায়িত চিংড়ির ব্যবসার আড়ালে নামিদামি কম্পানির ওষুধ নকল, ভেজাল শ্যাম্পু ও প্রসাধনসামগ্রী তৈরির একটি আস্তানা খুঁজে পেয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শাহনেওয়াজ গ্রুপের মালিক কাজী শাহনেওয়াজ ও কর্মকর্তা শরীফ রহমানকে।

গতকাল সোমবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ওই আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাব-৬ সূত্রে জানা গেছে, খুলনার রূপসা নদীর পাড়ে পূর্ব রূপসা এলাকায় ‘শাহনেওয়াজ সী ফুডস’ নামের একটি হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার আড়ালে সেখানে ওষুধ তৈরি করে বিভিন্ন নামিদামি কম্পানির লেবেল লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ সংবাদ পাওয়ার পর র‌্যাব-১ ঢাকা ও র‌্যাব-৬ খুলনার দুটি দল গতকাল দুপুরের পর ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। এ সময় সাত থেকে আট লাখ নকল ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট এবং ভেজাল শ্যাম্পু ও কসমেটিক সামগ্রী জব্দ করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাব-৬ খুলনার কর্মকর্তা মেজর মো. সুরুজ মিয়া বলেন, ওই কারখানার নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা মিলে নকল ওষুধে ভর্তি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে অপসোনিন ও এসকেএফসহ দেশের বিভিন্ন নামিদামি কম্পানির সাত থেকে আট লাখ ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ক্যাপসুলের কভার সরাসরি ‘র’ প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের পেটে গেলেও গলবে না। এ ছাড়া খোলা ড্রামে শ্যাম্পুসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল কসমেটিক সামগ্রী পাওয়া গেছে। অভিযানে র‌্যাব-১ ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।

মেজর সুরুজ মিয়া জানান, এ আস্তানায় তৈরি নকল ওষুধ একটি চক্রের মাধ্যমে ঢাকার মিটফোর্ড মার্কেটে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সেগুলো সারা দেশে বাজারজাত করা হয়। ওই মার্কেটের একটি সূত্র ধরেই খুলনার এ নকল ওষুধের আস্তানার খোঁজ পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, শিল্পপতি কাজী শাহনেওয়াজ ভালো মানুষের মুখোশে মানুষের জীবন রক্ষার ওষুধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। তিনি তাঁর ছেলের নামে প্রিন্স হারবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামও সেখানে ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হবে।


মন্তব্য