kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিহত সাত জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে তথ্য চেয়েছে ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিহত সাত জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে তথ্য চেয়েছে ডিএমপি

গাজীপুরের পাতারটেক এলাকায় পুলিশের অভিযানে নিহত সাত জঙ্গির ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার উপকণ্ঠ গাজীপুরের পাতারটেক এলাকায় পুলিশের অভিযানে নিহত সাত জঙ্গির ছবি প্রকাশ করে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। পাতারটেক এলাকার যে বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গিরা আস্তানা বানিয়েছিল তার মালিকের স্ত্রী ও ভাইকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার রাতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ তাদের গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।   

গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তিনি জানান, পাতারটেকের বাড়ির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী সোলায়মান সরকারের স্ত্রী সালমা বেগম (৩২) ও তাঁর ভাই ওসমান সরকারকে (৪৮) পুলিশ আটক করেছে। ওই বাড়িতে অভিযানে সাত জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটককৃতদের নাম নেই। ওই যুবকদের কিভাবে এবং কোন পরিচয়ে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল সেই তথ্য জানতে ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানিয়েছেন, ভোটার আইডি কার্ড হাতে নিয়েই ওই যুবকদের বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশকে ভাড়াটেদের তথ্য জানানোর কথা থাকলেও তাঁরা তা করেননি। তথ্য গোপন করে তাঁরা বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গাজীপুরে শনিবারের পৃথক অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়। রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো মর্গের মেঝেতে রাখা হয়েছিল। গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশগুলো সেখানেই পড়ে ছিল। পচন ধরে একপর্যায়ে লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। ওই সময় পর্যন্ত লাশের খোঁজে কেউ আসেনি। তাদের বিস্তারিত পরিচয়ও পাওয়া যায়নি। সংরক্ষণের জন্যে লাশগুলো রাত ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে।

জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, বাড়ির মালিকপক্ষের আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের থানায় রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে। গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থাকা অবস্থায় জঙ্গিদের নতুন করে কারো পরিচয় জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার গাজীপুরের হাড়িনালের লেবুবাগান ও নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেকের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব-পুলিশ। এ সময় পাতারটেকে একটি বাড়িতে সাত এবং লেবুবাগানের একটি বাড়িতে দুজনসহ মোট ৯ জঙ্গি অভিযানের সময় নিহত হয়। উদ্ধার হয় একে ২২ রাইফেল, পিস্তল, চায়নিজ কুড়াল, গুলি, চাপাতি, বিস্ফোরক, চাকু, বই, ল্যাপটপ ও গ্যাস সিলিন্ডার। নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে তিনজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। তারা হলো জেএমবির ঢাকা বিভাগের অপারেশনাল কমান্ডার ফারদুল ইসলাম আকাশ, রাশেদ মিয়া ও তৌহিদুল।

পরিচয় শনাক্ত করতে ছবি প্রকাশ : গতকাল ডিএমপি নিউজে বলা হয়, ‘গত ৮ অক্টোবর গাজীপুরের পাতারটেকে অভিযানে সাত জঙ্গি নিহত হয়। জঙ্গি অভিযান ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে আমরা  দেখেছি যে জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে থাকে। তদন্তের স্বার্থে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানা জরুরি। যদি কেউ তাদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে জানেন তাহলে ডিএমপির  ফেসবুক  পেজের ইনবক্স, হ্যালো সিটি অ্যাপস অথবা গাজীপুর জেলা পুলিশকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ’

র‌্যাবের অভিযানে নিহতদের পরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা : গত শনিবার পাতারটেকে গোয়েন্দো পুলিশের অভিযানের সময় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে গাজীপুরের হরিলাল পাশ্চিমপাড়ার লেবুবাগান এলাকার একটি বাড়িতে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি এবং টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা গ্রামে অপর এক আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে আরো দুজন নিহত হয়। তবে এই চারজনের পরিচয় র‌্যাব এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

অর্থদাতা আব্দুর রহমানের স্ত্রী রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা) জানান, আশুলিয়ায় অভিযান চলাকালে নিহত আব্দুর রহমানের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার রুমিকে গতকাল দুপুরে তিন শিশুসন্তানসহ আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। শিশুদের সেফ হোমে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। আদালতে শাহানাজ আক্তার রুমির জন্য পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমান ৫ দিন করে ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকবর আলী খান জানান, র‌্যাবের অভিযানে আটক নব্য জেএমবির অর্থদাতা আব্দুর রহমান ওরফে আইনুল হকের স্ত্রী শাহানাজ আক্তার রুমির জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় র‌্যাব রবিবার রাতে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমন আইনে দুটি মামলা দায়ের করে। পরে তাকে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল দুপুরের পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, স্বজনদের পক্ষ থেকে শিশু তিনজনের জন্য কোনো যোগাযোগ না করায় আদালতের মাধ্যমে তাদের সেফ হোমে প্রেরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে  র‌্যাব-৪-এর সদস্যরা আশুলিয়ার গাজীরচটে বসুন্ধরাটেক এলাকায় আমির মৃধার বাড়ির পঞ্চম তলায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির অর্থ জোগানদাতার প্রধান আবদুর রহমানকে আহত অবস্থায় আটক করে। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবদুর রহমান। এদিকে তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি করে ৩০ লাখ টাকা, পিস্তল, ২২ রাউন্ড গুলি, নাইটভিশন বাইনোকুলার, মোবাইল জ্যামার ডিভাইস, বিস্ফোরকদ্রব্যসহ বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।


মন্তব্য