kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দোহারে ‘হজবাবা’র শিষ্য মতির মাজার ও বাড়িতে আগুন

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দোহারে ‘হজবাবা’র শিষ্য মতির মাজার ও বাড়িতে আগুন

ঢাকার দোহারে ভণ্ডপীর মতিউর রহমান ওরফে হজবাবার অন্যতম শিষ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বাড়ি ও কথিত মাজারে গতকাল আগুন দেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দোহারে ভণ্ডপীর মতিউর রহমান ওরফে হজবাবার অন্যতম শিষ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বাড়ি ও কথিত মাজারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে ওই ঘটনা ঘটে।

তবে কারা আস্তানাটিতে আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১টার দিকে উত্তর জয়পাড়ার কাদেরিয়া দরবার শরিফ হিসেবে পরিচিত মাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ মাজারের কথিত পীর হিসেবে পরিচিত ছিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সেন্টু। এ সময় ওই মাজার বা বাড়িতে কেউ ছিল না। খবর পেয়ে দোহার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অন্তত দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে কথিত দরবার শরিফের তিনটি ঘর আগুনে পুড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, শনিবার রাতে একটি টিভি চ্যানেলে পীর সেন্টুর গুরু হিসেবে পরিচিত মতিউর রহমানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকে গুরু-শিষ্য দুজনই এলাকা ছাড়া। শনিবার রাতেই ভণ্ডপীর মতির আস্তানা সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। এরপর এলাকার অনেকে উত্তর জয়পাড়া এলাকায় সেন্টুর মাজারটিও সিলগালা করার দাবি জানিয়ে আসছিল। এরই মধ্যে রবিবার দুপুরে কথিত ওই মাজারটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানায়, এই মাজারটির জমি নিয়ে লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সেন্টুর বিরোধ চলছিল। তা ছাড়া সেন্টু গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই এলাকার আরেকটি গ্রুপেরও দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশের কারণে গুরু-শিষ্য দুজনই বিপাকে পড়ে। এ সুযোগে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়।

ঘটনার পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভণ্ডপীর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা ও তার শিষ্য সেন্টুর মাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, ‘হজ পালন করতে আপনাকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে মক্কা-মদিনায় যেতে হবে না, ঢাকার দোহারেই সেরে নিতে পারেন হজব্রত। আর যার নেতৃত্বে এই কাজটি হচ্ছে, নাম তার ডা. মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা। ’ ওই ভণ্ডপীরের এ ধরনের বক্তব্যের সূত্র ধরে শনিবার রাত ৯টায় একটি টিভি চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। এর পরপরই রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে তার লটাখোলা এলাকার আস্তানা সিলাগালা করে দেয়।

এ সময় উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালায়। আর প্রতিবেদনটি প্রচারের খবর পেয়েই গা ঢাকা দেয় মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা।


মন্তব্য