kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গরিবের চাল ধনীর ঘরে

ইউপি সদস্যের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১০ টাকা কেজি চালের কার্ড বিতরণে অনিয়ম তদন্ত করে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. শাহজাহানের নামে মামলা করেছে প্রশাসন। হতদরিদ্রদের চিহ্নিত করে কার্ড বিতরণের কথা ছিল।

কিন্তু সেই কার্ড পেয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী ও সচ্ছল ব্যক্তিরা। বুড়িচং উপজেলায় দুইতলা বাড়ির মালিক, একই পরিবারের তিন সদস্য, সদস্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে অংশগ্রহণকারী, সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছের লোকদের নামে ইস্যু করা হয়েছে অসংখ্য কার্ড। আর কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭৫ বছরের বিধবাসহ অসহায় দরিদ্রদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে গত শনিবার রাতে বুড়িচং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংগীত কুমার সরকার থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ৩ নম্বর বুড়িচং সদর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহজাহান (৪৫) ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্বে ছিলেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য নীতিমালা ২০১৬-এর বিধান উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সচ্ছল পরিবারের সদস্য জরইন গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে মো. রমজান আলী, হরিপুর গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে আবদুল আজিজ এবং একই গ্রামের হালিমের ছেলে সুমনের নাম তালিকাভুক্ত করেন। পরে তালিকাভুক্তরা গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উত্তর বাজার আবুল হাশেম মেম্বার ডিলার থেকে ১০ টাকার চাল উত্তোলন করেন। আসামি মো. শাহজাহান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে উল্লিখিত জরইন গ্রামের মো. রমজান আলীর দুইতলা একটি বাড়ি আছে। তাঁর ছেলে জামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। সামাজিকভাবে তিনি অত্যন্ত সচ্ছল ব্যক্তি। এ ছাড়া হরিপুর গ্রামের আ. হালিমের তিন ছেলে মোহন মিয়া, আ. আজিজ, (ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী) সুমন ভূইয়ার নামে তিনটি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে জরইন গ্রামের ৬০ বছর বয়সী বিধবা আছিয়া বেগমের কোনো ছেলে নেই। চার মেয়ের মধ্যে দুটি মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কার্ড থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়া হরিপুর গ্রামের মৃত আলী আহাম্মদের স্ত্রী ৭৫ বছর বয়সী হাজেরা বেগম, অছিম উদ্দিনের ছেলে ৬৫ বছর বয়সী অলি মিয়া বঞ্চিত হয়েছেন এই সুবিধা থেকে। বুড়িচং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

কোটালীপাড়ায় তিনজনের ডিলারশিপ বাতিল আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কোটালীপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে তিনজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিলাল হোসেন গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন।

বাতিল ডিলাররা হলেন কুশলা ইউনিয়নের আল-মামুন হোসেন, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের মো. কামরুল ইসলাম ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের ইজাবুল মোল্লা। প্রথম দুজনের বিরুদ্ধে পরিমাণে কম দেওয়া ও কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। শেষের জন যেকোনো সময় অভিযোগ দাখিল হতে পারে এ আশঙ্কায় ডিলারশিপ বাতিলের আবেদন করেন।

ইউএনও জিলাল হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি ও একজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। ’ এদিকে গোপালগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়নে কার্ড বিতরণ এবং মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার হরিদাশপুর ইউনিয়নে মাপে কম দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ তদন্ত করছে উপজেলা প্রশাসন।

রামগঞ্জে দুটি ডিলারশিপ বাতিল লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর, চণ্ডীপুর ও ইছাপুর ইউনিয়নে ডিলাররা বরাদ্দ চাল উত্তোলন করলেও হতরিদ্রদের মাঝে তা বিক্রি করেননি। এ নিয়ে ভাদুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া গত শনিবার রাতে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব আবদুল আওয়াল ইউএনও কার্যালয়ে সভা করেন। এ সময় আবুল খায়ের পাটোয়ারী ও হাছান তারেকের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।


মন্তব্য