kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাবি শিক্ষকের মৃত্যু

তদন্ত করবে যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষকের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে আসা তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন নিরোধ কমিটিকে।

গত শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটিকে তদন্তভার দেওয়া হয়। এদিকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধারের এক মাস পেরোলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মামুন আবদুল কাইয়ুম জানান, আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সভায় ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০১০’-এর আলোকে সাত সদস্যের নতুন কমিটি করা হয়। এতে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা পারভীনকে সভাপতি ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়। সভার একপর্যায়ে আকতার জাহানের ‘আত্মহত্যার প্ররোচনা’র পেছনে বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসা হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ তদন্ত করতে এ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাঁর সাবেক স্বামী ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের পাঠানো আবেদন আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করে। আলোচনার পর বিষয়টি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিরোধ কমিটি তদন্ত শেষে সিন্ডিকেটের কাছে সুপারিশ জমা দেবে এবং সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘অধ্যাপক আকতার জাহানের বিষয়ে বিভাগ কর্তৃক যে অভিযোগ বা আবেদন করা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত করার জন্য যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ’

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন তাঁর কক্ষ থেকে দুটি চিরকুট, দুটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোনসেট, ঘুমের ট্যাবলেট (ইজিএম), তরল পদার্থ, চারটি পেন ড্রাইভ, দুটি বালিশের কাভার, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও শেষ সময়ে পরা পোশাকের কাটা অংশ জব্দ করে পুলিশ।


মন্তব্য