kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকা ও রাজশাহীতে প্রশ্ন জালিয়াতচক্রের ১৪ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও রাজশাহী   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফল জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে চক্রের ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে নগরীর কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

গতকাল শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অভিযান চালিয়ে মেডিক্যালসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

রাজশাহীতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রাজশাহী মহানগরীর হেতেম খাঁ এলাকার রয়েল কোচিংয়ের পরিচালক সোহেল রানা ওরফে ডন, তার সহযোগী ওয়াহেদ, মোক্তাদির, মেহেদী হাসান, ইব্রাহিম খলিল, আজমল হোসেন, নয়ন আহমেদ, উপশহর এলাকার শাকিল ইসলাম, মিলন আহমেদ, খালেক ও শাহেদ।

ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আশরাফ উদ্দিন সৈকত, ওমর ফারুক, ইফাদ আহমেদ অরণ্য এবং তাদের সহযোগী আলম। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিনজন পালিয়ে যায়।

ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর

রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা SAM NILIM, অচেনা সাহায্যকারী এবং ARONNOKHAN vai নামে ফেসবুকে মেডিক্যালসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগাম দেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞাপন দিত। দীর্ঘদিন ধরে তারা এসএসসি, এইচএসসি, পাবলিক পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের নামে গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা করে আসছিল। এই ফাঁদে ফেলে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল বিকেলে পাঠানো রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার সারা দেশে একসঙ্গে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতরা পরীক্ষা চলার আগ মুহূর্তে মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠাচ্ছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে নগরীর হেতেম খাঁ এলাকার রয়েল কোচিংয়ের পরিচালকসহ সাতজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের আরেকটি দল উপশহর কবরস্থান মাঠ এলাকা থেকে আরো চারজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে আলামত হিসেবে মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা সবাই কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম জানান, ভর্তি পরীক্ষা শেষে তাঁরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কোনো মিল ছিল না। এ ঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে।


মন্তব্য