kalerkantho


তূর্ণা নিশীথা ট্রেন

১১টি বগি ও বাথের ৩৫ আসন চেয়েছে চট্টগ্রাম আ. লীগ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আন্তনগর ট্রেন ‘তূর্ণা নিশীথা’য় ১৭টি বগির মধ্যে আটটি শোভন শ্রেণির বগি আছে। দুটি এসি বাথে (কেবিন) আসন রয়েছে ৩৬টি। কিন্তু চট্টগ্রাম নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১১টি শোভন শ্রেণির বগি ও বাথের ৩৫টি আসন বরাদ্দ চেয়েছে।

বর্তমানে তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে ৭৭৬টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ৬৯৫টি আসনের জন্য আবেদন করেছে।

ঢাকায় দলের জাতীয় সম্মেলনে আসার জন্য তারা ২১ অক্টোবরের তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের এসব বগি ও আসন বরাদ্দ চেয়েছে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত ১১টায়।

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত তবে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন।

চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এবং দলের সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো আবেদন জমা পড়েনি। আজ-কালের মধ্যে আবেদন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, একসঙ্গে এত বগি ও আসন বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই। সে কারণে বিষয়টি ঢাকার রেল ভবনের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবারের মধ্যে রেল ভবন বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। ২১ অক্টোবর ভ্রমণের টিকিট দেওয়া হবে আগামী ১২ তারিখ। তার আগেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় চাইলে বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করতে পারে। অথবা যাত্রী টিকিট বাতিল করে এ ধরনের বিশেষ বরাদ্দ দিতে পারে।

জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত বগি থাকলে বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে ইতিমধ্যে কারা কারা আবেদন করেছে তা আমি জানি না। বিষয়টি সিওপিএসের (চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট) কাছ থেকে জেনে নিন। ’ এ সময় সিওপিএস দেশের বাইরে আছেন বলে জানানো হলে মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘অতিরিক্ত সিওপিএস আছেন। তিনি বলতে পারবেন। ’

এরপর অতিরিক্ত সিওপিএস মো. রোকুনুজ্জামানের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়; কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সরদার শাহাদাত আলীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনিও ফোন ধরেননি।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে কেউ কিছু বলবেন না। সবাই তাকিয়ে আছেন রেল ভবনের দিকে। সেখান থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটার ওপরই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে তিনটি শোভন শ্রেণির বগি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। এর আগে গত ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্যাডে লেখা একটি চিঠিতে চারটি শোভন শ্রেণির বগি ও এসি বাথের ৩৫টি আসন বরাদ্দ চাওয়া হয়। ২১ অক্টোবর ঢাকা যাওয়ার জন্য এ বরাদ্দ চাওয়ার পাশাপাশি পরদিন রাতে ঢাকা থেকে একই ট্রেনে চট্টগ্রামে আসার জন্য দুটি শোভন শ্রেণির বগি চেয়েছে তারা। এ ছাড়া ২৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতে একটি শোভন শ্রেণির বগি ও ১৫টি এসি চেয়ার আসন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে ২১ অক্টোবর ওই ট্রেনে শোভন চেয়ারের ৭০টি আসনের জন্য আবেদন করা হয়। এ ছাড়া একই শ্রেণির ৬০টি আসন চেয়েছে মহানগর শ্রমিক লীগ, একই সংখ্যক আসন চেয়েছে আওয়ামী লীগের কোতোয়ালি থানা শাখা ও ৮০টি আসন চেয়েছে দলটির চকবাজার থানা শাখা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্মেলনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার দলের পক্ষ থেকে আমরা তিনটি বগি চেয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের জিএমের কাছে আবেদন করেছি। ’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের বগি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। ’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে দুটি এসি বাথের কেবিনে ৩৬টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন কোটায় বরাদ্দ। ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথায় বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ)—প্রত্যেকের জন্য দুটি করে বরাদ্দ আছে। এ ছাড়া ভিআইপি চারটি, নৌবাহিনী একটি, চট্টগ্রাম চেম্বার একটি, জরুরি কোটায় চারটি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চারটি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে জরুরি কোটায় ট্রেনটির স্নিগ্ধা শ্রেণির ১০টি ও শোভন চেয়ারের ১০টি আসন সংরক্ষিত আছে। প্রতিবন্ধী কোটায় সংরক্ষিত আছে শোভন চেয়ারের ২০ আসন। এর পাশাপাশি ফেনী, কুমিল্লা, লাকসাম, আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনেও অনুপাতিক হারে যাত্রীদের দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত টিকিট রয়েছে।

পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনে যে ১৭টি বগি রয়েছে ওই বগিগুলোতে আসন রয়েছে ৭৭৬টি। এর মধ্যে নির্ধারিত কোটা ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট রয়েছে। বগি ও আসনের জন্য চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যেভাবে আবেদন পড়েছে সে অনুযায়ী বরাদ্দ দিলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পাবে না।


মন্তব্য