kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইয়াবা নিয়ে নতুন সংকটে দেশ

ভারত থেকে ইয়াবা আসার প্রমাণ মিলছে

ওমর ফারুক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইয়াবা নিয়ে নতুন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। মাদকটি একসময় শুধুই মিয়ানমার থেকে এলেও এখন সেটি ভারত থেকেও দেশে ঢুকছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এই ইয়াবা ভারতে তৈরি হচ্ছে, নাকি পাচারকারীরা ভারতের সীমান্তকে নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার করছে, তা নিশ্চিত নয়  সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

গত ১ থেকে ৫ অক্টোবর ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তোলা হলে ভারতীয় পক্ষ বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বাস দেয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ধরে মিয়ানমারে তৈরি হয়েছে ইয়াবার কারখানা। সেসব কারখানা বন্ধ করে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারও ইয়াবা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদকের মধ্যে ইয়াবা নিয়েই এখন টেনশন বেশি, যে কারণে ইয়াবা বন্ধ করে তরুণসমাজকে বাঁচানোর জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই এ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু তেমন সুফল আসছে না। মিয়ানমারে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর নতুন করে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ভারত সীমান্তে কিছু ইয়াবা ধরা পড়েছে, যে কারণে ভারতের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০১ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে দেশে ইয়াবা আসতে থাকে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ভারত থেকে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও মদ পাচার হয়ে আসত; ইয়াবা এসেছে এমণ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে দুই বছর আগে থেকে ভারতের সীমান্ত দিয়েও বাংলাদেশের ভেতরে ইয়াবা প্রবেশের প্রমাণ মিলেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বিশাল এলাকাজুড়ে সীমান্ত। ভারত থেকে ইয়াবা এলে সেটি আমাদের জন্য খুবই ভয়ংকর। ’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ইয়াবা যে কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে সেই  কেমিক্যাল আমদানি করা হয়ে থাকে। সেই কেমিক্যাল দিয়ে ভারতে ইয়াবা তৈরি করা হচ্ছে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভারত থেকে আসা যে দু-একটি চালান ধরা পড়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে পাচারকারীরা ভারতে তৈরি ইয়াবা নিয়ে এসেছে, নাকি মিয়ানমারের ইয়াবা পাচারের জন্য রুট হিসেবে ভারতের সীমান্ত ব্যবহার করেছে। ভারত থেকে আসার বিষয়টি ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে বিমসটেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমরা ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আশা করি, তারা এগিয়ে এলে ইয়াবা সমস্যার সমাধান হবে। ’

গত মঙ্গলবার রাতে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন সাহাপুর এলাকা থেকে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ বকুল ও মিন্টু নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, রাজশাহী এলাকা থেকে তারা ইয়াবা নিয়ে এসেছে। পুলিশের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে এ ইয়াবা এসেছে।

জানতে চাইলে ঈশ্বরদী থানার ওসি আবদুল হাই তালুকদার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা এলোমেলো তথ্য দিচ্ছে। কোথা থেকে এসব ইয়াবা পেয়েছে তার প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।  

এর কিছুদিন আগে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকা থেকে প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ইয়াবা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পশ্চিম ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।


মন্তব্য