kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা

খুলনার ১২ স্কুলে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট

কৌশিক দে, খুলনা   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুলনার ১২ স্কুলে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকট

জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে খুলনার ১২টি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এসব বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, যথাযথ শিক্ষাদান উপযোগী করে তোলার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক, অবকাঠামো নির্মাণ, কম্পিউটার ও বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষানীতির আলোকে ২০১৪ সাল থেকে মহানগরীর একটিসহ জেলার ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। দুই বছর আগে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে নগরীর দৌলতপুরের বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলার কয়রা উপজেলার জোড়শিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঁতুলতলার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাকোপ উপজেলার মৌখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কলাবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা উপজেলার বাসাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলতলা উপজেলার পশ্চিম শিরোমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটিয়াঘাটা উপজেলার পুঁটিমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসা উপজেলার নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে ৯০৯ জন ছাত্রছাত্রী।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, নতুন শ্রেণি চালু হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের মানসম্মত শিক্ষাদানের দক্ষতা ও যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সিলেবাস, প্রশ্ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি আলাদা। এ সম্পর্কে হাতে-কলমে তাঁদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এতে করে এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে তাঁরা অসুবিধায় পড়ছেন। শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া না হলেও তাঁরা নিজেদের চেষ্টায় আশপাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় তাঁরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারছেন না। গত তিন বছর এ বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশেরই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র কিনে আনতে হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক কম্পিউটার ও বৈজ্ঞানিক ল্যাব না থাকার কারণেও শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত কারণে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর নিবন্ধনও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।

নগরের বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাল্গুনী সাহা কালের কণ্ঠকে জানান, সরকারের এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামোর কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত তিনটি ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট আছে।

এ শিক্ষক বলেন, এসব সমস্যার সমাধান হলে সহজেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

একই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হারুন-অর রশীদ জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পাঠদানের পরিধি বাড়লেও সরকারিভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ আসেনি। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে অতিরিক্ত শিক্ষা সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ তৈরি ও মেরামত করাতে হচ্ছে।

সমস্যার কথা স্বীকার করে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন জাহান

বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়গুলোর সর্বশেষ অবস্থার বিবরণ দিয়ে এ বছরের ২২ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পত্র পাঠিয়েছি। ’

 


মন্তব্য