kalerkantho


আমদানিকারক জেলে

এক লাখ ১০ হাজার কেজি গুঁড়ো দুধ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক লাখ ১০ হাজার কেজি গুঁড়ো দুধ জব্দ

চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটকৃত গুঁড়ো দুধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

আমদানি করা গুঁড়ো দুধের বস্তায় নিজেরাই উত্পাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ দেওয়া সিল মারায় চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চার হাজার ৪০০ বস্তা দুধ। প্রতিটি বস্তায় দুধ রয়েছে ২৫ কেজি। এসব দুধ ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ ঘটনায় করা দুটি মামলায় তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুডস প্রসেসিং ফ্যাক্টরির মালিক নাজিম উদ্দিনকে। এ ছাড়া তাঁকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বন্দরনগরের মাঝিরঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুডস প্রসেসিং ফ্যাক্টরি ইউক্রেন থেকে এসব গুঁড়ো দুধ আমদানি করেছিল। দুধের বস্তার গায়ে ‘উত্পাদন জুলাই ২০১৬, শেষ জুলাই ২০১৮’ লেখা সিল মারা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানেরই বস্তাগুলোতে সিল মারার কথা। কিন্তু আমদানি করা বস্তায় মেয়াদের সিল ছিল না।

সে কারণে দুধের বস্তায় আমদানিকারকের এই সিল মারা সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে এসব গুঁড়ো দুধের খোঁজ পায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এসব আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পর তাঁরা আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। তাই তাত্ক্ষণিক বিচারের ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে খবর দেওয়া হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নাজিম উদ্দিনকে আটক করেন। পরে তাঁকে অর্থ ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানের বিষয়ে নগর ডিবির উপপরিদর্শক আফতাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমদানি করা গুঁড়ো দুধ খালাসের সময় বস্তায় ভুয়া সিল দেওয়া হচ্ছে—গোয়েন্দা পুলিশ এমন তথ্য পেয়েই মাঝিরঘাটে অভিযান চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের পর আমদানিকারক নুর ডেইরির মালিক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশ ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই দুটি মামলা করে। পুলিশের মামলায় মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধ মজুদ ও ভুয়া সিল মারার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে মান পরীক্ষা না করানোর।

ভ্রাম্যমাণ আদালত তাত্ক্ষণিক বিচার করে একটি মামলায় আমদানিকারক নাজিম উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। অন্য মামলায় তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানার সঙ্গে তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়। পরে নাজিম উদ্দিনকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বাড়ি পটিয়া উপজেলার পশ্চিম গৈড়লা গ্রামে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফোরকান জানান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে গুঁড়ো দুধের বস্তাগুলোতে উত্পাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখসংবলিত সিল মেরে অপরাধ করেছে। এই কারণে আমদানিকারককে কারা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নুর ডেইরি আমদানি করা পণ্য মাঝিরঘাটের গুদামে মজুদ করে। ওই গুদামেই রাখা ছিল চার হাজার ৪০০ বস্তা গুঁড়ো দুধ। এসব বস্তায় উত্পাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ উল্লেখ ছিল না।

গুদামের দায়িত্বে থাকা শাহজাহান বলেন, শুক্রবার এসব গুঁড়ো দুধ গুদামে আনা হয়েছে। গাড়ি থেকে নামানোর সময়ই বস্তাগুলোতে উত্পাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের এই সিল দেওয়া হয়।

ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করা কাগজপত্রে দেখা যায়, প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে গুঁড়ো দুধ আছে। সেই হিসাবে জব্দ করা দুধের ওজন এক লাখ ১০ হাজার কেজি। এগুলোর দাম এক লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অবশ্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাজিম উদ্দিন দাবি করেন, ‘উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভুলে উত্পাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেওয়া হয়নি। এই কারণে বাজারজাত করার আগে আমরা সিল দিচ্ছিলাম। ’ তখন বিচারক জানতে চান, ‘তাহলে দুধের বস্তায় সিল দেওয়ার আগে তো বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না?’ জবাবে নাজিম উদ্দিন বলেন, এটা তাঁর ভুল হয়ে গেছে।


মন্তব্য