kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শ্রেণিকক্ষে ঢুকে স্কুল ছাত্রীকে প্রহার ঠাকুরগাঁওয়ে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঠাকুরগাঁও শহরের সিএম আইয়ুব উচ্চ বিদ্যালয়ে অপরিচিত এক নারীসহ তিন যুবক দশম শ্রেণির কক্ষে ঢুকে এক ছাত্রীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে ক্লাসের বিরতিকালে পরবর্তী ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছিল ছাত্রীরা।

ওই সময় এক নারী ও তিন যুবক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে হরিজন সম্প্রদায়ের এক ছাত্রীর স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোনসেট পেয়ে তারা বলে, এ ছাত্রী মোবাইল চোর। এ কথা বলেই তারা ওই ছাত্রীকে মারধর শুরু করে।

হরিজন সম্প্রদায়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমকে বলে, ‘বিদ্যালয়ের এক সহপাঠীর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সে কারণে ওই সহপাঠীর বাড়িতে আমি প্রায় যাতায়াত করছিলাম। কিন্তু সহপাঠীর বাড়িতে গেলে ও ছাড়া অন্য কেউ আমার সঙ্গে কথা বলত না। ’ তার দাবি, দুই বান্ধবীর সম্পর্ক যাতে না থাকে সে জন্যই ওই বান্ধবীর নানি ও মামা এ ঘটনা ঘটায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ ঝা বলেন, ‘ঘটনার সময় দশম শ্রেণির ছাত্রীরা শিক্ষকদের খবর দেয়। পরে আমরা শিক্ষকরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে দেখি একজন নারী ও তিনজন যুবক ওই ছাত্রীকে ঘিরে রেখেছে। এ সময় সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ছাত্রীকে উদ্ধার করে। কিন্তু ছাত্রীর নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা গেছে। ’

ওই সহপাঠীর নানি বলেন, বিদ্যালয় শুরুর আগে এই মেয়েটি তাঁর মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিল। এরপর থেকে বাড়ির একটি মোবাইল ফোনসেট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই বাড়ির লোকজন সন্দেহ করছিল মোবাইল ফোনসেটটি এই মেয়েটি নিয়ে গেছে। তা যাচাই করতেই তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে মোবাইল ফোনসেটটি পাওয়া যায়। তাই এ ঘটনা ঘটে।

সদর থানার এসআই আবু হানিফ মণ্ডল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই সহপাঠীর নানিকে আটক করা হয় আর যুবকরা পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়ালিউর রহমান সমঝোতার উদ্যোগ নেন। পরে তিনি দুপক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করে দেন।

এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা বলেন, কাউন্সিলরসহ অন্যরা তাঁকে অনুরোধ করায় সমঝোতা করতে বাধ্য হন।


মন্তব্য