kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিবির ক্যাডার পুলিশে নিয়োগ পাচ্ছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কক্সবাজারে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে ছাত্রশিবিরের এক ক্যাডার! কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার দুর্ধর্ষ ওই শিবির ক্যাডার নুরুল মোস্তফা ওরফে মিয়াকে ‘সরকারদলীয়’ সমর্থক উল্লেখ করে এরই মধ্যে পুলিশ প্রতিবদেনও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এরকম তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন পেকুয়া থানার ওসি ও তদন্তকারী উপপরিদর্শক।

জানা গেছে, কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে কনস্টেবল পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ৩ অক্টোবর। এতে দেখা যায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাইন্যাঘোনা গ্রামের হাজি বদিউল আলমের ছেলে নুরুল মোস্তফা (১৮)। সে ছাত্রশিবিরের পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা শাখার সাবেক কর্মী।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোহাম্মদ মুস্তাফিজ ভুঁইয়া গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নুরুল মোস্তফার ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল সুপারিশ নেই। তবে আমার থানার একজন উপপরিদর্শক এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। তিনি তদন্ত করেই প্রার্থীদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর তথ্য প্রেরণ করেছেন। ’

পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনাম গতকাল নিশ্চিত করে বলেন, নুরুল মোস্তফা স্থানীয় একজন শিবির ক্যাডার।

পেকুয়া উপজেলা জঙ্গি-সন্ত্রাসী দমন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তাক আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, নুরুল মোস্তফা এলাকায় এজন শিবির ক্যাডার হিসাবে পরিচিত।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক কামরুল হাসান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একদিনে তিনজন প্রার্থীর ঘরে গিয়েছি। আর তাও সকাল ৯টা থেকে ১২টার মধ্যেই এই তিন প্রার্থী সম্পর্কে গোপনীয় তথ্য আমাকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। তিনজনের বাড়িও পৃথক স্থানে এবং অনেক দূরে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা গ্রামে প্রার্থী নুরুল মোস্তফার বাড়ি গেলে তার উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা দুই লোক আমাকে জানিয়েছেন, নুরুল মোস্তফা সরকার সমর্থক একজন যুবক। তাই আমি এ রকমই লিখে পাঠিয়ে দিয়েছি। ’

ওই উপপরিদর্শক জানান, একই এলাকার দুর্গম জনপদ উজানটিয়া গ্রামের বাহাদুর এবং পূর্বকুল গ্রামের রুদেল নামের প্রার্থীর ব্যাপারেও অনুরূপ তথ্য পেয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের আরো ৮-৯ জন সক্রিয় কর্মী পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।


মন্তব্য