kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মরণসভায় বক্তরা

সৈয়দ হক সাহসের সীমা সম্প্রসারিত করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সৈয়দ হক সাহসের সীমা সম্প্রসারিত করেছেন

সব্যসাচী লেখক ও বাংলা একাডেমির ফেলো সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে গতকাল শুক্রবার এক স্মরণসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত এ লেখককে স্মরণ করে বক্তরা বলেন, সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের গর্ব।

তিনি তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে আমাদের সাহসের সীমাকে সম্প্রসারিত করেছেন। তাঁর কবিতা যেমন বিশেষত্বে সমুজ্জ্বল, তেমনি কথাসাহিত্যে অভিনব।

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে গতকাল বিকেল ৪টায় শুরু হয় এই স্মরণানুষ্ঠান। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি গতকাল প্রকাশ করে ‘পরানের গহিন ভিতরে সৈয়দ শামসুল হক’ শীর্ষক ৩০৪ পৃষ্ঠার একটি শ্রদ্ধা-স্মারক। এর সম্পাদক বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এতে সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদিত কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথার পাশাপাশি রোগশয্যায় রচিত তাঁর ১৬টি কবিতা এবং কবির অঙ্কিত চিত্রগুচ্ছ ও ভাস্কর্যকর্মের প্রতিলিপি স্থান পেয়েছে।

সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার কার্যক্রম শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। স্মরণসভায় সৈয়দ শামসুল হকের জীবন ও কর্ম বিষয়ে স্মৃতিচারণা ও মূল্যায়নমূলক বক্তব্য দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, রাজনীতিবিদ নূহউল-আল লেনিন, নাট্যজন আতাউর রহমান, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম, সৈয়দ শামসুল হকের সহধর্মিণী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. মনিরুজ্জামান, কবি রুবী রহমান, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি কাজী রোজী, কবি মুহাম্মদ সামাদ, কবি রবীন্দ্র গোপ, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, আবুল হাসনাত, কবি নাসির আহমেদ, কবি তারিক সুজাত, কবি সৈয়দ আল ফারুক, সুভাষ সিংহ রায়, প্রকাশক মিলন নাথ, সৈয়দ শামসুল হকের মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক ও পরিবারের সদস্যরা।

স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। এতে বক্তারা বলেন, সৈয়দ হক ছিলেন একজন রেনেসাঁ-মানব। বিপুল সৃজনশীলতার অধিকারী পঞ্চাশের দশকের এই কবি নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘বাহান্নর সন্তান’ বলে। শিল্প-সাহিত্যের ইউরোপীয় রূপ-রীতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় সত্ত্বেও তিনি বারবার ফিরে এসেছেন বাংলার নিজস্ব শিল্পশেকড়ের দিকে।

কবিপত্নী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে অর্ধশতকের দাম্পত্য জীবন যেন একটি কর্কট রোগের প্রকোপে মুহূর্তেই স্বপ্নে মিলিয়ে গেল। তবু তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে এবং তাঁর বিপুল সৃষ্টিতে।

দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম ও প্রধান ভালোবাসা ছিল বাংলা ভাষা। এই ভাষার চিন্তায় ও প্রবহমানতায় বাবা বেঁচে থাকবেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘২০১৫-র ডিসেম্বরে আমরা বাংলা একাডেমির এই আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সৈয়দ শামসুল হকের ৮০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করেছি; কিন্তু বছর না ঘুরতেই এখানেই আমাদের তাঁর স্মরণসভায় মিলিত হতে হয়েছে। সৈয়দ শামসুল হক যেমন আমাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিতে সজীব থাকবেন, তেমনি থাকবেন তাঁর সৃষ্টিকর্মে। ’


মন্তব্য