kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাড়িতে বাংলা ভাইয়ের বৈঠক

স্বীকার করলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিজ বাড়িতে জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের বৈঠকের কথা স্বীকার করলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর সরকার।

জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আলমগীরকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এদিন সকালেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

জেএমবির এক সময়ের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলামের বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে আলমগীর বলেন, একই বাড়িতে তিনি ও তাঁর ভাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সরকার পৃথকভাবে বাস করেন। বাংলা ভাই জাহাঙ্গীরের বাসায় বসেছিলেন। সেখানে তখনকার পুঠিয়া সার্কেলের এএসপি আলমগীর কবীর ও কয়েকজন সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী নগরীর একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বলেন, ‘বাংলা ভাইয়ের সময়কার ভিডিওটি আমি দেখেছি আপনাদের মাধ্যমে। আপনারা যারা লিখিতভাবে প্রকাশ করেছেন, সেগুলোও আমি দেখিছি। বাংলা ভাই আমার বাসায় না, আমার ভাইয়ের বাসায় বসেছিলেন। এখন নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন ওখানে আমার কোনো বক্তব্যও নেই। আমার কোনো কথাও ওখানে নেই। ’

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ নামে কর্মকাণ্ড শুরু করে এই জঙ্গিগোষ্ঠী। তারা রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সর্বহারা দমনের নামে ব্যাপক সন্ত্রাস চালায়। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলামসহ ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়।

আলমগীর সরকার জানান, ২০১২ সালে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় তাঁর। তিনি স্বীকার করেন যে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও পান সান্টুর সহায়তায়। সংবাদ সম্মেলনে জাকিরুল ইসলাম সান্টুও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আরেক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কেরামুল হাসান সুজন। এসব নেতাই আলমগীরকে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছেন।


মন্তব্য