kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মিঠাপুকুরে নির্মাণাধীন ইকো পার্ক

গরু-ছাগল চরে বেড়ায় বসে বখাটেদের আড্ডা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গরু-ছাগল চরে বেড়ায় বসে বখাটেদের আড্ডা

রংপুরে নির্মাণাধীন মিঠাপুকুর ইকো পার্কের বিশ্রাম, প্রসাধনী ও পিকনিক স্পট (ওপরে); পার্কের ভেতরে চরে বেড়াচ্ছে গরু। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের মিঠাপুকুরে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইকো পার্ক নির্মাণকাজ শুরুর দুই বছরেও শেষ হয়নি এর সিংহভাগ কাজ। এখনো সীমানাপ্রাচীর তৈরি না হওয়ায় নির্মাণাধীন পার্কটি উন্মুক্ত ও অনিরাপদ রয়ে গেছে।

ফলে নিরাপদে চরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল, বসছে বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ এখনো বাকি থাকায় এবং জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় ইকো পার্কটির নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা কেউ জানে না। নিম্নমানের কাজেরও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হতাশ এলাকাবাসী।

২০১৩ সালের ১২ আগস্ট সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান ইকো পার্কটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। শাল্টিগোপালপুর ইউনিয়নের চৌপথী নামক এলাকায় বন বিভাগের ২২৬ একর এলাকাজুড়ে ইকো পার্কটির প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ এখনো বাকি। জানা গেছে, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে চাহিদাপত্র ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মিঠাপুকুর ইকো পার্কে ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিশ্রামাগার, পার্কিং এলাকা, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গোলঘর, টিকিট কাউন্টার, প্রবেশদ্বার, নিরাপত্তারক্ষী কক্ষ, গণশৌচাগার, পানির ট্যাংক ও পানি সরবরাহ লাইন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যারাক, পার্ক অফিস ভবন, ডিসপ্লে মানচিত্র, আমব্রেলা শেড, স্পিনার এবং পাকা বেঞ্চ নির্মাণ। দুই দফায় মাত্র এক কোটি টাকার বরাদ্দে ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে পার্ক অফিস ভবন, সামনের অংশের সীমানাপ্রাচীর, টিকিট কাউন্টার, প্রবেশদ্বার, গণশৌচাগার, পানির ট্যাংক, বিশ্রামাগার, প্রসাধনী ও পিকনিক স্পট, পার্কিং এলাকা, গোলঘর, আমব্রেলা শেড ও পাকা বেঞ্চ। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ অনুযায়ী পানি সরবরাহের জন্য দুটি মার্সিবল টিউবওয়েল স্থাপন এবং প্রধান প্রবেশদ্বারে টিকিট কাউন্টারের জানালা করা হয়নি। প্রবেশদ্বারের একটি কপাট খুলে গেছে। কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করেছে।

ইকো পার্কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গরু-ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। বহিরাগত লোকজন অবাধে পার্ক এলাকার এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধান প্রবেশদ্বারে কোনো পাহারাদার নেই। নেই নিরাপত্তাকর্মী। তিন পাশে কোনো সীমানাপ্রাচীরও নেই। সেখানে জমে উঠেছে বখাটেদের আড্ডা, কোনো কোনো স্থানে চোখে পড়ে গাঁজাসেবীদের আসর। অভিযোগ রয়েছে, প্রায়ই তাদের খপ্পরে পড়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বিভিন্ন ভবনের যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া, গোলাম মোস্তফা, বকুল মিয়া, আকমল হোসেন, দয়াল মণ্ডল, শরিফুল ও আলগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ইকো পার্কটি এখনো চালু না হওয়ায় আমরা খুবই হতাশ হয়েছি। অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। ’

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রাসেদ খান মিলন বুলু ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম জানান, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই মিঠাপুকুরবাসীর এই দাবি পূরণ করেছে। ইতিমধ্যে ইকো পার্কের অনেক কাজ শেষ হয়েছে। আশা করি অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হবে।

বন বিভাগের মিঠাপুকুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। বরাদ্দ না আসায় সীমানাপ্রাচীরসহ বিভিন্ন কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। এ কারণে বহু প্রতীক্ষিত ইকো পার্কটি চালু করা যাচ্ছে না। তবে বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শেষ করে পার্কটি চালু করা হবে।


মন্তব্য