kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

সংকটের মধ্যেই নার্সদের প্রেষণে যাওয়ার হিড়িক!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংকট থাকার পরও নার্সদের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। এখন পর্যন্ত গত এক বছরে ১৪ জন চট্টগ্রাম ও ফৌজদারহাট নার্সিং কলেজে গেছেন।

আরো তিনজনের যাওয়ার আদেশ হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১২ থেকে ১৫ জন চেষ্টা করছেন।

প্রেষণে যাওয়া নার্সরা হাসপাতাল থেকে বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। কিন্তু কাজ করবেন অন্য প্রতিষ্ঠানে।

অভিযোগ উঠেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নার্সরা স্থানীয়ভাবে (চমেক হাসপাতাল) এবং ঢাকার সেবা পরিদপ্তর থেকে আদেশ নিয়ে প্রেষণে যাচ্ছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক (মেট্রন) শিপ্রা চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নার্স সংকটের কারণে আমাদের রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কর্মরত নার্সদের মধ্যে নার্সিং কলেজে প্রেষণে শিক্ষকতায় যাওয়ায় সংকট আরো বাড়ছে। ’

শিপ্রা চৌধুরী বলেন, এই হাসপাতাল এক হাজার ৩১৩ শয্যার হলেও গড়ে দৈনিক আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া বহির্বিভাগেও দুই-তিন হাজার রোগী দৈনিক চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকের সংকটের চেয়ে বর্তমানে নার্সের সংকট বেড়ে গেছে। ৫০০ শয্যা হিসেবে বর্তমানে ১৬০টি নার্সের পদ শূন্য।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্টাফ নার্স চট্টগ্রাম ও ফৌজদারহাট নার্সিং কলেজে প্রেষণে গেছেন। আরো তিনজনকে প্রেষণে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজে যোগ দিতে সেবা পরিদপ্তর থেকে কয়েক দিন আগে আদেশ হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১২ থেকে ১৫ জন নার্স বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন প্রেষণে নার্সিং কলেজে যাওয়ার জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজ চালু হয়। বিএসসি-ইন-নার্সিং ও ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি কোর্সে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১২৫ জন ভর্তি হয়। নার্সিং কলেজ চালু হওয়ার আগে নার্সিং ইনস্টিটিউট ছিল। ওই সময় ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং কোর্স ছিল। বর্তমানে নার্সিং কলেজে ১২টি নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর (শিক্ষক) পদের সবকটিতে শিক্ষক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মাকছুদা বেগম বলেন, ‘নার্সিং কলেজ হলেও শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের এখনো কোনো অর্গানোগ্রাম হয়নি। নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টরের মঞ্জুরীকৃত কোনো পদ শূন্য নেই। সব পদে শিক্ষক আছেন। তবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদানের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকের মারাত্মক সংকট রয়েছে। যাঁরা এখানে প্রেষণে আসছেন তাঁরা বিএসসি ও এমপিএইচ পাস করা। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, গ্রামের চিকিৎসকরা যেভাবে নিজেদের ইচ্ছামতো পছন্দনীয় শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে কাজ করেন। সেভাবে নার্সদের মধ্যেও প্রেষণে যাওয়ার মনোভাব বেড়ে গেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি যোগদানের পর স্থানীয় আদেশে কোনো নার্স প্রেষণে যাননি। যদিও ঢাকার সেবা পরিদপ্তরের আদেশ পেয়েছেন যাঁরা তাঁদের যেতে দেওয়া হচ্ছে। ’ তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে ৩৫০ জন নার্স পাওয়া যাবে। তখন হাসপাতালে নার্স সংকট কেটে যাবে।


মন্তব্য