kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হেরিটেজ হিসেবে নিউ মার্কেট সংরক্ষণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীতে অসংখ্য ছোট-বড় মার্কেট হওয়ার পরও নিউ মার্কেটের আবেদন এতটুকু কমেনি। এর মূলে প্রশস্ত খোলা চত্বর, ঐতিহ্য, আভিজাত্য, অবস্থান আর মানসম্মত সব পণ্যের সমাহার।

১৯৫২ সালে শুরু হয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৮৫৪ সালে। কিছু অর্থলোভী মানুষের কারণে এই মার্কেটের ছিমছাম পরিবেশ অনেকখানি নষ্ট হয়ে গেলেও আজও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পছন্দ এই শপিং হাব। এখনো চেষ্টা চলছে ঐতিহ্যের অংশ ও কালের সাক্ষী এ মার্কেটের আদি রূপ ধ্বংসের।

ঢাকা নিউ মার্কেটকে হেরিটেজের আওতায় আনার জন্য ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে চিঠি গেছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, ঢাকা নিউ মার্কেটের নকশা করেছেন ব্রিটিশ স্থপতি ‘হে’। আর নান্দনিক বৃহৎ ফটকটি তৈরি করেছেন প্রকৌশলী শরীফ। উচ্চ আদালত এরই মধ্যে ঢাকা নিউ মার্কেটকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাই বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এ মার্কেটকে হেরিটেজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

ঢাকা নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, “বর্তমানে ঢাকা শহর ‘ইটের পাঁজরে লোহার খাঁচায়’ পরিণত হয়েছে। এক ছাতার নিচে সব পণ্যের এমন সমাহার আর নারীবান্ধব মার্কেট খুব একটা চোখে পড়ে না। ক্রেতারা যখন কেনাকাটা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন খোলা আকাশের নিচে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ মেলে এখানে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এ মার্কেটের পার্কিংয়ের জায়গায় তিনটি বিশাল ভবন আর সবুজ পার্কে মসজিদ বানিয়ে তার নিচে দোকান তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই, মার্কেটটি সংরক্ষিত থাকুক। ”

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিউ মার্কেট ঢাকা শহরের প্রথম পরিকল্পিত মার্কেট। আমার এখনো সেখানে যেতে ভালো লাগে। রাজধানীতে এমন খোলামেলা পরিবেশের দ্বিতীয় আরেকটি মার্কেট খুঁজে পাওয়া যাবে না। করাচিতে আইন করে এমন সব স্থাপনা অক্ষত রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের উচ্চ আদালতও নিউ মার্কেটকে ঐতিহাসিক স্থাপনার মর্যাদা দিয়েছেন। ’

ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্থপতি তৈমুর ইমলাম। তিনি বলেন, ছোট কাটরা-বড় কাটরার মতো অনেকটা নিউ মার্কেটের মূল ফটক। এ মার্কেটের লে-আউটে রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া, ভিন্নতা। তবে এরই মধ্যে মার্কেটের কিছু পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। ’ স্থপতি তুগলক আজাদ বলেন, ‘আমরা চাই, নিউ মার্কেট চত্বরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ করা হোক। ’


মন্তব্য