kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য এম আব্দুর রহিমের স্মরণসভা

‘অর্থের কাছে আদর্শকে কখনোই বিকিয়ে দেননি তিনি’

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘অর্থের কাছে আদর্শকে কখনোই বিকিয়ে দেননি তিনি’

গতকাল দিনাজপুর ইনস্টিটিউট চত্বরে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা কমিটির অন্যতম সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত অ্যাডভোকেট এম আব্দুর রহিমের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নাম আংশিক পরিবর্তন করে ‘এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ রাখার প্রস্তাব করেছেন বিশিষ্টজনরা। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট এম আব্দুর রহিম স্মরণে নাগরিক শোকসভা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁরা এ প্রস্তাব করেন।

গতকাল শুক্রবার দিনাজপুর ইনস্টিটিউট চত্বরে এ সভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রুহুল আমিন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ অর্থপেডিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল হক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি চিত্ত ঘোষ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসাহাকসহ অন্যরা। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু।

সভায় বিশিষ্টজনরা বলেন, অ্যাডভোকেট এম আব্দুর রহিম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। একজন অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৩ এপ্রিল যখন দিনাজপুর পাকিস্তানি সেনাদের দখলে চলে গিয়েছিল তখন এম আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দিনাজপুরকে মুক্ত করেছিলেন।

বক্তারা বলেন, এম আব্দুর রহিম বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক ছিলেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে অনেকেই তাদের চরিত্র পাল্টালেও এম আব্দুর রহিম ছিলেন ব্যতিক্রম। অর্থের কাছে আদর্শকে কখনোই বিকিয়ে দেননি তিনি, কখনো মাথানত করেননি। তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এ দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছিলেন, সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই এগোলে এ দেশ একদিন সোনার বাংলায় পরিণত হবে।

বক্তারা এম আব্দুর রহিমের স্মরণে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজকে ‘এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে নামকরণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব জানান। এ সময় মঞ্চে ছিলেন এম আব্দুর রহিমের কনিষ্ঠ পুত্র জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। স্মরণসভায় মরহুমের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বাধ্যকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন এম আব্দুর রহিম। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইবুন্যাল ১-এর সাবেক চেয়ারম্যান।


মন্তব্য