kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকার চালে চালিয়াতি

আকমলের কার্ড বাতিল করে দিনমজুরের নামে ইস্যু

হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লালমনিরহাট বিদ্যুৎ বিভাগের সুইসবোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) বিত্তবান আকমল হোসেনের নাম ১০ টাকার চালের তালিকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ৩০০ টাকায় তাঁর নেওয়া প্রথম কিস্তির ৩০ কেজি চালের বিপরীতে এখন তাঁকে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে ৯৬০ টাকা।

আর বাতিল করা তাঁর কার্ডটি গতকাল ইস্যু করা হয়েছে দিনমজুর আবু হানিফার নামে। তাঁর বাড়িও আকমলের মতো আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বিভার গ্রামে।

১০ টাকার চাল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ম-দুর্নীতির খবর গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। নড়েচড়ে বসে খাদ্য অধিদপ্তর। যার প্রভাবে আকমলের জায়গায় এখন থেকে চাল পাবেন হানিফা। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. বদরুল আহসানের তাত্ক্ষণিক নির্দেশে এ ব্যবস্থা। তবে ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের বান্দেরকুড়া গ্রামের দিনমজুর কাঞ্চনের। ডিজি ওই ব্যক্তির নামে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কার্ড ইস্যু করার নির্দেশ দিলেও তা মানতে নারাজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু। চেয়ারম্যানের দাবি, যেহেতু কাঞ্চনের স্ত্রী কমলার নামে দুস্থ মাতার কার্ড (ভিজিডি) আছে, তাই তাঁর নামে ১০ টাকার চালের কার্ড ইস্যু করলে তা নীতিমালার লঙ্ঘন হবে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর ইউনিয়নের হররাম গ্রামের আধাপাকা বাড়ির মালিক হাসেনেরও কার্ড বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এ ছাড়া জেলার পাঁচ  উপজেলাতেই তত্পর হয়ে উঠেছেন খাদ্য বিভাগের লোকজন, যাতে তালিকায় থাকা বিত্তবানদের তথ্য সংবাদকর্মীসহ তদারককারীদের নজরে আসার আগেই বাতিল করা যায়। এ ছাড়া অতি দরিদ্র বাদে অবশিষ্ট সব কার্ডধারী যাতে দ্রুত তাঁদের নামে ইস্যু করা কার্ড ফেরত দেন সে জন্যও মাইকিং করারও উদ্যোগ নিয়েছে কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা খাদ্য অফিস।

জানতে চাইলে আদিতমারী ও কালীগঞ্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ টি এম সাজ্জাদুর রহমান খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজির নির্দেশনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকারি চাকুরে আকমলকে এখন সরকারি ক্রয়মূল্য হিসেবে প্রতি কেজি ৩২ টাকা ধরে ৩০ কেজি চালের দাম বাবদ ৯৬০ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। কাঞ্চনের কার্ড না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে তাঁর নামে কার্ড ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু চেয়ারম্যান জানিয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রীর নামে ভিজিডি কার্ড আছে। ’ তিনি জানান, মাইকিং করার পরও যেসব সচ্ছল ব্যক্তি কার্ড ফেরত দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য