kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাদারীপুরের এসপিসহ চার পুলিশের বিরুদ্ধে রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাদারীপুরের পুলিশ সুপারসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসসহ আসামিদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বুধবার এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব এবং পুলিশের আইজিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরের পুলিশ সুপারসহ রাজৈর থানার ওসি এবং দুই এসআই কাজী রমজানুল হক ও সদানন্দ বৈদ্যের বিরুদ্ধে এ রুল জারি করা হয়েছে। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সরকারি গাছ চুরির অভিযোগে রাজৈর থানার তিন মামলা এবং প্রতারণার অভিযোগে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন মামলায় আসামি ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কেন দণ্ডবিধির ২২১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মোশতাক আহমেদ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মো. ইশতিয়াক আহমেদের করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, রিয়াজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান।

সূত্র জানায়, সরকারি গাছ চুরির অভিযোগে কদমবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজৈর থানায় তিনটি মামলা হয়। এরপর চেয়ারম্যানের অনুসারীরা হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে এবং ছবি ফেসবুকে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি। হাইকোর্টে এ বিষয়ে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। এ রিট আবেদনে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিরাপত্তা দিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এ আদেশের পর বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৪ সালে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন মামলায় বিধান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আদালতের নথিতে পলাতক এ আসামি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, যা বেআইনি। এ-সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে ‘আদালতের নথিতে পলাতক তবু তিনি ইউপি চেয়ারম্যান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য