kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেলা পরিষদ আইন সংশোধনী বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জেলা পরিষদ আইন সংশোধনী বিল পাস

বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার বিধান করে সংসদে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০১৬ পাস করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।

সংশোধিত বিল অনুযায়ী নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি পদে থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। নির্বাচনের জন্য তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে। আর নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র গৃহীত হলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে মন্ত্রণালয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাস হওয়ার আগে জনমত যাচাই করা এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র সদস্যরা। তবে তাঁদের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাস হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের, যার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হবেন। আরো বলা হয়েছে, আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পরিষদকে ১৫টি ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগে একজন করে সদস্য ও প্রতি তিনটি ভাগে একজন করে সদস্য সংরক্ষিত আসন বিবেচনায় নির্বাচিত হবেন।

বিদ্যমান আইনের ৬ ধারার ২ উপধারার চ দফা পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশোধিত দফায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বর্তমান প্রশাসক এবং নির্বাচিত এমপিসহ অন্যদের বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিলে আরো বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে চেয়ারম্যানের কাছে। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে একজন বা সরকারি কর্মকর্তারাও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সরকার গেজেট করে সরকারি কোনো কর্মকর্তাকেও এ দায়িত্ব দিতে পারবে।

গত ৩ অক্টোবর জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন। গত ৪ অক্টোবর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ওই দিনই কমিটির বৈঠক ডেকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা হয় প্রতিবেদন, যা গত ৫ অক্টোবর সংসদে উত্থাপন করা হয়।

পাস হওয়া এই বিলে রাষ্ট্রপতি সই করলে তা আইনে রূপ পাবে। এই আইনের আলোকে আগামী ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাদেশ নিয়ে ক্ষোভ : জেলা পরিষদ আইনটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করায় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। সংসদ অধিবেশনে ১৪৪ বিধির আওতায় সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

এর আগে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ নিয়ে ডা. ফরাজী বলেন, ‘সংসদকে পাস কাটিয়ে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করতে এটা করা হয়েছে। না হলে দেশে কী এমন জরুরি পরিস্থির সৃষ্টি হলো যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের এক দিন আগে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এটা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত। তাই আমি অধ্যাদেশটি সংসদে অননুমোদন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব দিয়েছি। ’

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য জরুরি প্রয়োজনেই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে মাত্র তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। তাহলে উনি নির্বাহী ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা কোথায় দেখলেন?’ তিনি বলেন, এই সরকারের একটি ভিশন আছে। সরকার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চায়। অথচ একমাত্র জেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার জন্য এই অধ্যাদেশ জারি করা প্রয়োজন ছিল।


মন্তব্য