kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন বস

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন বস

১. তিনি জানেন না কী করতে হবে : কখনো কোনো কাজের দিকনির্দেশনা চাওয়ার পর আপনার বস কি ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকেন? যদি তাই হয়, তবে তিনি জানেন না কী করতে হবে। আসলে সবাই কী কাজ করছে আর কিভাবে লক্ষ্য এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সে সম্পর্কে তাঁর মাথায় কোনো পরিকল্পনা নেই।

যেহেতু তিনি জানেন না কী ঘটছে, তাই সমাধান দিতে পারেন না। তাঁরা এও জানেন না, প্রতিদিন কাজগুলো কিভাবে এগোয়। হিউম্যান ওয়ার্কপ্লেস ওয়েবসাইটের সিইও লিজ রাইয়ান জানান, কর্মীদের মৌলিক দায়িত্ব কী কী তা জানা বসের অন্যতম দায়িত্ব। যদি বস তা না জেনে থাকেন, তবে আপনিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নন। কাজেই তাঁর সঙ্গে আপনি কিভাবে কাজ করবেন যিনি কিনা আপনার বিষয়ে কোনো চিন্তাই করেন না?

২. অসম্ভব সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি : প্রত্যেককে কাজ শেষ করার ডেডলাইন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কর্মীদের কাজ সম্পর্কে যে বসের কোনো ধারণা নেই তিনি অসম্ভব লক্ষ্য চাপিয়ে দেন। তাঁর এই আচরণ দেখে মনে হবে, তিনিই আপনার ভয়ংকরতম শত্রু। অহরহ তিনি কর্মীদের ওপর কাজ চাপিয়ে দেন। কাজ করতে রাজিই থাকেন সবাই। কিন্তু এমন লক্ষ্য ও সময়সীমা বেঁধে দেন, যার মধ্যে কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আসলে বস নিজেই কখনো এমন কাজ করেননি। এ ছাড়া এটি করতে কতটা সময় লাগতে পারে সে সম্পর্কে তাঁর ধারণাই নেই।

৩. আপনার বিষয়ে অন্যের মতামতের ওপর নির্ভরশীল থাকেন : আপনি কেমন কাজ করেন সে সম্পর্কে বসের কোনো ধারণা নেই। আপনার যোগ্যতা ও দুর্বলতার বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না। কর্মীদের বুঝতে তিনি অন্য কর্মীদের মতামত নিয়ে থাকেন। এ বিষয়টি যেকোনো কর্মীকে হতাশায় ফেলে দেয়। তখন তাকে নতুন চাকরির কথা ভাবতেই হয়।

৪. কর্মীদের কথা শোনেনই না বস : অনেক সময়ই দেখা যায়, বস তাঁর দলকে কিভাবে চালাবেন তা নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না। নিজের ওপর বিশ্বাস থেকেই তিনি সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেন। এগুলো অনেক সময়ই বাস্তবতা বিবর্জিত হয়। তাঁর হাতে কোনো সূত্র থাকে না, যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবেন। কাজেই তাঁর কাছে কোনো উপায়ও থাকে না। অনেক সময় কর্মীরা কোনো দিশা না পেয়ে বসের কাছে যেতে বাধ্য হন। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। বসদের সমস্যা সমাধানে বাধ্য করতে হলে কার্যকর আলাপচারিতা দরকার। ঝামেলাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। ফলাফল কী হতে পারে সে বিষয়েই জ্ঞান দিতে হবে। যদি ব্যবস্থা গ্রহণ অধরাই থেকে যায়, তবে ভিন্ন পথে হাঁটতে হবে। ঊর্ধ্বতন বসদের কাছে বিষয়টি জানানো যেতে পারে।

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার


মন্তব্য