kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাবেক সেনা কর্মকর্তা খুনে মামলা গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর মহাখালীতে নিজ বাসায় খুনের শিকার হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওয়াজি আহমেদ চৌধুরী (৭৬)। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার গৃহকর্মী আব্দুল আহাদকে আসামি করে কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, ওয়াজি আহমেদ চৌধুরী ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের পদ থেকে অবসরে যান। বাক্প্রতিবন্ধী ছোট ছেলেসহ তিনি ডিওএইচএসের বাসায় থাকতেন। বুধবার সকালে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মালামাল লুট করে গৃহকর্মী আহাদ পালিয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

কাফরুল থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তাঁর গলায় কালো দাগ, বুকের বাঁ পাশ ও পায়ের গোড়ালিতে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। যা দেখে শ্বাসরোধে হত্যার সন্দেহ করা হচ্ছে। গৃহকর্মী আহাদসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ওয়াজি আহমেদ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। স্ত্রী আতিয়া চৌধুরী ছয় বছর আগে মারা গেছেন। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে নাবিদ আহমেদ চৌধুরী আমেরিকাপ্রবাসী। ছোট ছেলে বাক্প্রতিবন্ধী ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে ওয়াজি আহমেদ বসবাস করছিলেন মহাখালী ৪ নম্বর রোডের ১৪৮ নম্বর ভবনে। ছেলে ফুয়াদ থাকতেন দোতলায়। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ফুয়াদ ঘুম থেকে জেগে কক্ষ থেকে বের হতে পারেননি। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ বুঝতে পারেন। তালা ভাঙতে না পেরে তিনি ব্যালকনি দিয়ে নিচে নেমে বাসার মেন গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। অন্যদের সহায়তায় ফুয়াদ দরজার তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে মেঝেতে বাবাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর পা এবং গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। এ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওয়াজি আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই রেশাদ আহমেদ চৌধুরী এ ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে বাসাটির গৃহকর্মী আব্দুল আহাদকে (৩৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া নাম উল্লেখ না করে আসামি করা হয়ছে আরো কয়েকজনকে। ঘটনার পর বাসায় থাকা একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি ৪০ ইঞ্চি টিভি পাওয়া যাচ্ছে না বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। ওই বাসার নিচে কর্মরত সি কে মারমা ও সন্তোষ মারমা সকাল ১০টার দিকে কিছু সন্দেহজনক শব্দ শুনেছেন বলে পরে জানিয়েছেন।

বাদী রেশাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চাচাতো ভাই ফুয়াদ একটি নেট কম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন না, কানে কম শোনেন। অনেক রাত পর্যন্ত ইন্টারনেটে কাজ করে ঘুমাতে যান ফুয়াদ। সে কারণে তিনি বাসায় থাকলেও বাবাকে খুনসহ মালামাল লুটের বিষয় টের পাননি।

পলাতক গৃহকর্মী আব্দুল আহাদের বাবার নাম জমির আলী। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ থানার বৈরাগীবাজারের নদার মালপাড়া। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সে এ বাড়িতে কাজ নিয়েছিল বলে জানা গেছে।


মন্তব্য