kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কথা ও কবিতায় সৈয়দ হক স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কথা ও কবিতায় সৈয়দ হক স্মরণ

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে স্মরণ করে জাতীয় কবিতা পরিষদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্থানটিতে প্রতিবছর জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করে থাকে জাতীয় কবিতা পরিষদ, সেই গ্রন্থাগার চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা ও কবিতায় স্মরণ করা হলো সদ্য প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে। চত্বরের উন্মুক্ত মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজকও ছিল জাতীয় কবিতা পরিষদ; যে সংগঠনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন সৈয়দ হক।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরুটা ছিল রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। শিল্পী লিলি ইসলাম গেয়ে শোনান ‘তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ।

স্মৃতিচারণায় অংশ নেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, কবি রবীন্দ্র গোপ, ছড়াকার আসলাম সানী, কথাসাহিত্যিক ও মনোচিকিৎসক মোহিত কামাল, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, কবির সহধর্মিণী ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক, মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক, রাজনীতিক সুভাষ সিংহ রায়, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, লেখক আহমেদ মাযহার, অন্যপ্রকাশের অন্যতম কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত।

কবির সহধর্মিণী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, “কখনোই ভাবিনি তিনি থাকবেন না, আমাকে তাঁর স্মৃতিচারণা করতে হবে। তাঁর জীবনীশক্তি আমার চেয়ে বেশি ছিল। মৃত্যুর মুখোমুখি থেকেও তিনি লিখে গেছেন। নতুন একটা সিরিজ শুরু করেছিলেন ‘ভাবনার ডানা’ নামে। শেষ দিকে তিনি যখন আর লিখতে পারছিলেন না তখন অনুলিখন করাতেন। তিনি অনেক ঘোরের মধ্যে ছিলেন। ‘শেষ যোদ্ধা’ নামে একটি নাটক লিখছিলেন। অনেক কবিতা, গল্প, লিখতে চেয়েছেন। ”

মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক বলেন, ‘আমার শোক দুই ভাগে। একটা হচ্ছে লেখকের জন্য, যিনি খুব বড় মাপের লেখক ছিলেন। আরেকটি দিক হচ্ছে বাবার প্রতি শোক, যে বাবা আমাকে জীবন চিনিয়েছেন, যাঁকে আমি আর কখনো দেখব না। এই কষ্ট আমি কাটাতে পারছি না। তিনি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলতেন, যে রাস্তায় কেউ যেতে চায় না, তুমি সেই রাস্তায় বুক উঁচিয়ে হেঁটে যাবে। ’

ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, “‘এ বড় দারুণ বাজি তারে কই বড় বাজিকর’—আমার বাবাই যেন সেই বড় বাজিকর, যাঁর লেখা মানুষের মনে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাজিকরের মতো। যিনি বাংলা সাহিত্যের ভূগোল বদলে দিয়েছেন। তাঁর জীবনটাই যেন এক মহাকাব্য। ”

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমরা আশ্রয়হীন হয়ে গেলাম। সংশয়ে, বেদনায়, আনন্দে যাঁর কাছে যাওয়া যেত, আশার বাণী শোনা যেত, সেই মানুষটিকে আর পাব না। তাঁর সঙ্গে সময় কাটানো মানেই নতুন কিছু জানা, আনন্দ লাভ করা। হালকা চালের রসিকতার মধ্যেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ইঙ্গিত থাকত। বড় মাপের লেখক ছিলেন সৈয়দ হক। রচনাশৈলী, বাক্য গঠনপ্রক্রিয়া, নতুন নতুন শব্দ গঠন দিয়ে নিজস্ব গদ্য ভাষার জন্ম দিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। ’

কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সৃজনশীল সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর পুরোধা ব্যক্তিত্ব বুদ্ধদেব বসু ও সৈয়দ শামসুল হক। তিনি সাহিত্যের শিক্ষকও বটে। তাঁকে হারানো মানে জাতির অভিভাবককে হারানো।

সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদন করে কবিতা পাঠ পর্বে আমিনুর রহমান সুলতান পাঠ করেন ‘পাহাড় পাহাড়ি’, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ পাঠ করেন ‘মঞ্চ থেকে দূরে’। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ মান্নান, রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, দিলারা হাফিজ, জাহিদুল হক প্রমুখ।

বাংলা একাডেমিতে আজ স্মরণসভা : সব্যসাচী লেখক ও বাংলা একাডেমির ফেলো সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি আজ যৌথভাবে এক স্মরণসভার আয়োজন করেছে। বিকেল ৪টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।


মন্তব্য