kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের নবকিশলয় হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও আছে।

২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন না দিয়ে অধ্যক্ষ তাঁর অনুগত পকেট কমিটি বানিয়ে রেখেছেন। অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁর অপসারণ দাবি করলেও প্রভাবশালীদের মদদে এখনো তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে।

জানা গেছে, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকায় ১৯৭৫ সালে নবকিশলয় হাই স্কুল নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরে এটি কলেজ শাখাও খোলে। ১৯৮২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নজিবুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নজিবুর রহমান প্রধান শিক্ষক হয়েই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষিকাদের তিনি নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন। ২০০২ সালে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আছমা বেগম প্রধান শিক্ষক (সে সময় শুধু স্কুল শাখা ছিল) নজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে স্কুল পরিচালনা কমিটিকে তা অবহিত করেন। তিনি অভিযোগে বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও দুর্ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তিনি এর কোনো প্রতিকার পাননি। ২০১২ সালে চাকরি থেকে বিদায় নিতে হয় আরেক সহকারী শিক্ষক আফরোজা পারভিনকে। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতারুন নেছাকেও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আখতারুন নেছা তাঁর অভিযোগে জানান, অধ্যক্ষ তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাঁর কথামতো কাজ না হলে তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি নিয়মবহির্ভূতভাবে আখতারুন নেছাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে আখতারুন নেছা শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছেন।

অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানের যোগসাজশে ২০ বছর ধরে পরিচালনা কমিটির কোনো নির্বাচনও হচ্ছে না। অধ্যক্ষ তাঁর মনোনীত লোকজন দিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। অভিভাবকসহ এলাকাবাসী নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে এলেও অধ্যক্ষ এতে কর্ণপাত করছেন না। এ ছাড়া বাস্তবে না থাকলেও নাসরিন আক্তার নামের একজন শিক্ষিকা এবং হালিম মোল্লা ও জনু মোল্লা নামে দুজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে কাগজে-কলমে চাকরিরত দেখিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন অধ্যক্ষ। আনোয়ার হোসেন নামের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হলেও তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বেতন-ভাতা ওঠানো হচ্ছে। এভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গত ৩৪ বছরে নজিবুর রহমান জমি, বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক নুরে আলম বলেন, শিক্ষক নজিবুর রহমানের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘এসব ঘটনা আমার জানা নেই। যেহেতু এখন জেনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ নজিবুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে এসএমএস লিখে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।


মন্তব্য