kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনজিওর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে বিল পাস

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অশোভন মন্তব্য করলে শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল-২০১৬’ পাস হয়েছে। পাসকৃত বিলে কোনো এনজিও বা এনজিও কর্মকর্তা সংবিধান বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অশোভন মন্তব্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো এনজিও তাদের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ প্রশাসনিক খাতে ব্যয় করতে পারবে না বলেও বিলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে চলা সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বিলটি নিয়ে আলোচনাকালে বিলের বিরোধিতা করে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। কিন্তু তাঁদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। একইভাবে তাঁদের সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নাকচ হওয়ার পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিলের বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো থেকে এই নিবন্ধন নিতে হবে। আইন অমান্য করলে যেকোনো সময় ওই নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে। নিবন্ধিত কোনো এনজিও তাদের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ প্রশাসনিক খাতে ব্যয় করতে পারবে না।

বিলে বলা হয়েছে, এনজিওতে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে। বিদেশি অনুদান একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসেবে (মাদার অ্যাকাউন্ট) থাকতে হবে। ব্যয়ের হিসাব অডিট করার পর এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে দিতে হবে। এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। আইন না মানলে প্রথমে সতর্ক করা হবে। নিবন্ধন বাতিল ও জরিমানার বিধানও আইনে রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, এ আইনের অধীন নিবন্ধিত এনজিও বা সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করতে পারবেন না। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তালিকাভুক্ত কিংবা নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন বিদেশি অনুদান নিতে পারবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য