kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামেক হাসপাতাল

দুপুরে হঠাৎ ধর্মঘট, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দুপুরে হঠাৎ ধর্মঘট, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে গতকাল চরম দুর্ভোগের শিকার হয় রোগী ও স্বজনরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারধরের জেরে গতকাল বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ ধর্মঘট শুরু করেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। মারধর হয়েছিল আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে।

ওই ঘটনায় রোগীর বন্ধু রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে গতকাল দুপুর ২টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা।

হঠাৎ এই ধর্মঘট শুরু হওয়ায় রোগীরা দুর্ভোগে পড়ে। পরে সন্ধ্যার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন চিকিৎসকরা।

ধর্মঘট আহ্বান ও প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শিক্ষানবিশ চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অপু। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল হাসপাতাল পরিচালককে। কিন্তু গতকাল দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট শুরু করেন। ’

অপু জানান, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জনি হোসেনকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সহপাঠীরা দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে দেখতে আসে। এ সময় রোগীর কাছে তাদের ভিড় না করার জন্য নিষেধ করেন ওই ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক অপু। তিনি সবাইকে বাইরে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে জনির সহপাঠীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। পরে তাঁরা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনির বন্ধু ছাত্রলীগকর্মী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক রোগীর মৃত্যু হয়। সোলেমান (৬০) নামের এই রোগীর বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুরে। তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বজনরা চিকিৎসকদের দায়ী করেন। পরে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক সুকান্তর সঙ্গে রোগীর স্বজন মামুনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের জন্য চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। তবে পরে কাজে ফেরেন তাঁরা।

এ দুটি ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অবাধে রোগীর স্বজনদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একজন রোগীর সঙ্গে একজন থাকার নিয়ম চালু করে তারা।

এ অবস্থায় গতকাল দুপুর থেকে ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ে রোগীরা। অনেক রোগীকে হাসপাতাল ছেড়ে বাইরের ক্লিনিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে সন্ধ্যার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।


মন্তব্য