kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডিজেল রপ্তানিতে তিন গুণ প্রিমিয়াম চেয়েছে ভারত

ত্রিপুরা থেকে গ্যাস আপাতত আসছে না

আরিফুজ্জামান তুহিন   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রস্তাবের তিন গুণেরও বেশি প্রিমিয়াম দাবি করেছে ভারত। প্রতি ব্যারেল ডিজেল আমদানিতে দেশটি ৫.৫ ডলার দাবি করেছে।

এর বিপরীতে বিপিসি প্রতি ব্যারেল ডিজেলে ১.৭৮ ডলার দিতে রাজি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এক বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ভারতের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা থেকে গ্যাস চেয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে গতকালের বৈঠকে ভারত জানিয়েছে, ত্রিপুরায় যথেষ্ট গ্যাস নেই, ফলে সেখান থেকে আপাতত গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ বাংলাদেশ সালদা নদীর কূপ থেকে গ্যাস তুলছে না, কিন্তু ত্রিপুরার সালদা থেকে ভারত গ্যাস উত্তোলন করছে। ফলে একই স্তরের এ গ্যাসের দাবি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারেই করতে পারে।

জানা গেছে, গত মাসে বিপিসি শিলিগুড়ির নুমালিগড় থেকে ২০ বছর তেল আমদানির বিষয়ে একটি প্রস্তাব জমা দেয় জ্বালানি বিভাগে। তাতে বলা হয়, প্রতি ব্যারেল তেলে প্রিমিয়াম বাবদ ভারতকে ১.৭৮ ডলার দেওয়া যেতে পারে। তবে নুমালিগড় থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের অর্থ যদি ভারত দেয় সে ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল ডিজেলে প্রিমিয়াম দেওয়া যেতে পারে ৫.৭৩ ডলার। পাইপলাইন বসাতে খরচ হবে ৬১৪ কোটি টাকা। তবে পুরো অর্থ ভারত দিতে সম্মত হয়নি। ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইনের মধ্যে ভারতের মধ্যে যে ছয় কিলোমিটার রয়েছে শুধু তারই খরচ দেবে দেশটি।

গতকালের বৈঠকে ভারত প্রতি ব্যারেলে যে ৫.৫ ডলার প্রিমিয়াম (পরিবহন, ট্যাক্স ও অন্যান্য ফি) দাবি করেছে তাতে বাংলাদেশের লোকসান হবে বছরে অন্তত তিন হাজার ৯৮০ কোটি টাকার মতো। ভারতের নুমালিগড় থেকে প্রতিবছর ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ।

জানা গেছে, সর্বশেষ বিপিসি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে যে জ্বালানি তেল আমদানি করেছে সেখানে প্রতি ব্যারেলে  প্রিমিয়াম বাবদ খরচ হয়েছে ২.৩৭ ডলার। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই জ্বালানি তেল আনতে জাহাজভাড়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সিস্টেম লস তো রয়েছেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলে প্রিমিয়াম একটু বেশিই পড়ে। কিন্তু ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজভাড়া লাগবে না, সিস্টেম লসও নেই। সে কারণে প্রতি ব্যারেলে প্রিমিয়াম সাড়ে পাঁচ ডলার অনেক বেশি বলে মনে করছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে ত্রিপুরা থেকে গ্যাস আমদানি, ভারতীয় কম্পানি ওএনজিসির বাংলাদেশের সমুদ্রে সার্ভে ও অনুসন্ধান কূপ খনন, মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে গ্যাস আমদানি, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতকে এলএনজি করিডর প্রদান, আদানি গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও এলপিজি সরবরাহ, পেট্রোবাংলা-পেট্রোনেট এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ বিষয়ে বলেন, টাপি (তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া পাইপলাইন), ইরান (ত্রিদেশীয়) ও মিয়ানমার গ্যাস পাইপলাইনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়েছে বৈঠকে। ভারতের পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ব্যক্তিগতভাবে স্টিয়ারিং কমিটি ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

নসরুল হামিদ বলেন, বিপিসি ও ভারতের আইওসিএল এলপিজি বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশি  এলপিজি কম্পানিগুলো ভারতের বাজারে যাতে ঢুকতে পারে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি খাত ও এর বাজারে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

সূত্র জানায় বৈঠকে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। বাংলাদেশে ত্রিপুরার গ্যাস রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস নেই। ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে ভাবা যাবে।


মন্তব্য