kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘শিশুবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি রাষ্ট্র’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, একটি শিশুবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা এখনো দিতে পারেনি রাষ্ট্র। ফলে শিশু নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এই নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে আর কোনো শিশুর পরিণতি জান্নাত, রাজন, রাকিবের মতো না হয়। এ জন্য সমাজের বিত্তশালী, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের শিশু : প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতি ২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সেভ দ্য চিলড্রেনসহ ১০টি শিশুবিষয়ক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পরিচালক চন্দন ডি গোমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কোনো শিশুকে ১৪ বছরের আগে যাতে কোনো শ্রমে নিয়োজিত না হতে হয় এই নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে। এ জন্য সমাজকেও নজর রাখতে হবে। কিছু পরিবার রয়েছে, যাদের জীবন-জীবিকা একটি শিশুর ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রকে ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, যখন অনেক উন্নত দেশে ‘শিশু আইন’ প্রণীত হয়নি, সেই ১৯৭৪ সালে শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে ‘শিশু আইন’ প্রণয়ন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি শিশুদের শিক্ষাসহ যাবতীয় অধিকার নিশ্চিতের জন্য কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও শিশুর অধিকার রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। এসব উদ্যোগ যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারলে আর কোনো শিশু অধিকারবঞ্চিত হবে না।

সচিব নাসিমা বেগম বলেন, সমাজে অনেক শিশু জন্মগতভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। তারা নানাভাবে অধিকারবঞ্চিত হয়। এসব শিশুর প্রতি বৈষম্য কমাতে সমাজের প্রতিষ্ঠিত লোকজনকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ছাড়া বিত্তশালীরা তাদের পার্শ্ববর্তী দরিদ্র শিশুর প্রতি নজর রাখলে দেশে কোনো অধিকারবঞ্চিত শিশু থাকবে না।


মন্তব্য