kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনএসডিসির চতুর্থ বৈঠক

সবার আগে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করুন : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সবার আগে দেশের জনগণের কল্যাণে চিন্তা করা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজিএস) অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি সবার আগে জনগণের কল্যাণের কথাই সবাইকে চিন্তা করতে বলব, আমরা তাদেরকে কতটুকু দিতে পারছি, দেশের কতটুকু উন্নয়ন করতে পারছি এবং দেশকে কতটুকু মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পারছি।

’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনএসডিসি) চতুর্থ বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ও এনএসডিসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে (এসডিজি) সংশ্লিষ্টদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে...। টেকসই ও প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়। ’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা তাঁর দল আওয়ামী লীগের পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই জনগণের জন্য আত্মনিবেদনে প্রস্তুত রয়েছি। ...ক্ষমতা কোনো ভোগের বা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয় নয়। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়াতেই আমরা সফলতাও পাচ্ছি। ’

জনগণকে আর একটু ভালো রাখাই তাঁর সরকারের সার্বক্ষণিক চিন্তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি জনগণের কথা না ভেবে শুধু নিজেদের চিন্তাই করতাম তাহলে হয়তো তাদের জন্য কিছুই করা সম্ভব হতো না। ...আমাদের চিন্তাতে সব সময় কেউ কোথাও অভুক্ত নেই তো এবং কর্মসংস্থান, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। ’

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়গুলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে কাজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেই আমাদের আন্তর্জাতিক বিশ্বে এগিয়ে যেতে হবে। ...প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। ’

দেশের দ্রুত উন্নয়ন তথা মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশের সবাইকে শিক্ষিত করে তুলতে চায়, যাতে করে যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের করণীয়, কৌশল ও পরিকল্পনা কী হবে সে বিষয়গুলোও চিন্তা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প প্রণয়নে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার সারা দেশে যে বিশেষ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেসব জায়গায় বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের ওপরও গুরুত্ব দিতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা জনশক্তিও রপ্তানি করি। সেখানেও আমরা মনে করি—আগে যেমন ধরেবেঁধে পাঠানো হতো, সেটা না, আমরা দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে চাই। ’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, শ্রম ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য