kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৩ জঙ্গিকে ফেরত আনার প্রস্তুতি

ওমর ফারুক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



৩ জঙ্গিকে ফেরত আনার প্রস্তুতি

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের তিন জঙ্গিকে ফেরত আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে শিগগিরই প্রস্তাব যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ গত মাসে তাদের গ্রেপ্তার করে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহিঃসমর্পণ চুক্তির আওতায় এসব জঙ্গিকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

কলকাতা পুলিশ গত ২৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সন্দেহে জাহিদুল শেখ ওরফে জাফর ওরফে জবিরুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে জামাই ফারুক, মাওলানা ইউসুফ ওরফে বক্কর, শহিদুল ইসলাম ওরফে শামীম, রফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেল ও আবুল কালাম ওরফে করিমকে। পরে জানা যায়, তাদের মধ্যে ফারুক, রুবেল ও কালাম বাংলাদেশের নাগরিক।

উল্লিখিত তিন জঙ্গির মধ্যে আনোয়ার হোসেন ফারুক ময়মনসিংহের ত্রিশালে জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল। ফারুকের নেতৃত্বেই পুলিশকে হত্যা করে প্রিজন ভ্যান থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ছিনতাই হওয়া জঙ্গি সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন ওরফে সোহেল ও বোমা মিজান অধরা। তারা দেশে আছে, না বিদেশে পালিয়েছে তা-ও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ। জঙ্গি ফারুককে হাতে পেলে দুর্ধর্ষ দুই জঙ্গির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ কারণে ফারুকসহ অন্য দুই জঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি জঙ্গিদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করছি। সেগুলো কমপ্লিট হলেই তাদের ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। ’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের (বাংলাদেশি তিন জঙ্গি) ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। পুলিশের তরফ থেকে প্রস্তাব পেলেই তাদের ফেরত দিতে ভারতের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশে জঙ্গি তত্পরতার তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আনোয়ার হোসেন ফারুককে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাকে হাতে পেলে অনেক তথ্য জানা যাবে। ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের মূল হোতা এই জঙ্গি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পুলিশের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আসবে। সেই প্রস্তাবের সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে তার সপক্ষে কাগজপত্র দিতে হবে। পরে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি পাঠাবে ভারতের কাছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বহিঃসমর্পণ চুক্তি রয়েছে। সম্প্রতি চুক্তিটি সংশোধন করায় সহজেই অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

জঙ্গি সোহেল ও বোমা মিজান এখনো অধরা : এদিকে ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি সালেহীন ওরফে সোহেল ও বোমা মিজানকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা অধরাই রয়ে গেছে। এ দুজনকে ধরিয়ে দিতে অনেক আগেই পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য সব ইমিগ্রেশনকেও জানানো হয়েছিল। এর পরও জঙ্গি মিজান ও সালেহীন ভারতে পালিয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, সালেহীন ও বোমা মিজান আত্মগোপন করে আছে। তাদের ধরার জন্য র‌্যাবের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা দেশে, নাকি দেশের বাইরে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


মন্তব্য