kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আদালতে দায় স্বীকার করে কামরানের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সালাহ উদ্দিন কামরান দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর কাছে তিনি জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তামিমের দেওয়া তথ্য জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তাদের পরিকল্পনার বিষয়েও জানিয়েছেন কামরান।

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরী গুলশান হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। তিনি নব্য জেএমবির (জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) শীর্ষ নেতা। কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। তাঁর সহযোগী সালাহ উদ্দিন কামরানকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ (গতকাল) কামরানকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সে বিজ্ঞ আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ’

জানা গেছে, গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে কামরানকে হাজির করে তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

গত বুধবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে কামরানকে আটক করা হয়। পরদিন তাঁকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, কামরান নারায়ণগঞ্জে নিহত তামিম চৌধুরীর একজন সহযোগী। তিনি আরো কয়েকজন জঙ্গির ব্যাপারে জানতেন, যারা কল্যাণপুরে জড়ো হয়ে গুলশানের চেয়ে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই ভোরে কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ী নামে পরিচিত একটি বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। অপারেশন হিট স্ট্রম টুয়েন্টি সিক্স নামের ওই অভিযানে সন্দেহভাজন ৯ জঙ্গি নিহত হয়। জীবিত আটক করা হয় রাকিবুল হাসান রিগ্যান নামের একজনকে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় রিগ্যানও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


মন্তব্য