kalerkantho


পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু

ছয় আসামির বিচার শুরু

আদালত প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছয় আসামির বিচার শুরু

রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠের পাশের অরক্ষিত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ছয় আসামির বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ আদালতের (পঞ্চম) বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন রেখেছেন।

আসামিরা হলেন রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক, সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, তড়িৎ প্রকৌশলী জাফর আহমেদ শাকি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর হাউসের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আবদুস সালাম। তাঁরা সবাই জামিনে আছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের আগে আসামিদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। বিচারক আসামিদের আবেদন নাকচ করে তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪-ক ধারায় আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। তখন তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার চান।

বিচারে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বাসার কাছে মাঠে খেলতে গিয়ে পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর শিশুটি অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতভর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়। পরদিন দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান শিশুটি পাইপে নেই ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দা মজিদ, লিটু ও আনোয়ার। তাঁদের তৈরি একটি ক্যাচারের মাধ্যমে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তখন দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে দায়িত্বে অবহেলার কারণে পাইপের ভেতরে পড়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ এনে তার বাবা নাসির ফকির ২৭ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু জাফর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জাহাঙ্গীর আলম ও শফিকুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর ৪ জুন অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করেন। আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) নির্দেশ দেন।


মন্তব্য