kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভর্তি পরীক্ষার আগেই বাদ বিপুল শিক্ষার্থী

রফিকুল ইসলাম   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভর্তি পরীক্ষার আগেই বাদ বিপুল শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) লেখাপড়া করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন ছিল শামসুর রহমান শান্তর। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৭০০ টাকা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে। কিন্তু তার পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। কারণ বুয়েট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার আগেই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। শান্তর মতো বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীকে এভাবে আগেভাগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। ফি বাবদ টাকা নিয়েও তাদের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়ন বাবদ ব্যয় কমাতে বুয়েটে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাত্র ৯ হাজার শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বুয়েটের মতো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিও একই পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও বিপুলসংখ্যক ভর্তীচ্ছু অর্থ খরচ করে আবেদন করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো শর্টলিস্টের নামে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের বড় অংশকেই পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে না।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রসপেক্টাসে বলা আছে—বৈধ আবেদনকারীর সবাইকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের গণিত, পদার্থ, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ে মোট পয়েন্টের মধ্য থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হবে। ’

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিতরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে। কারণ শর্ত একই আর শর্টলিস্টেও সংখ্যা ছয় থেকে ১০ হাজারের মতো। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত হিসেবে দিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকে এই চার বিষয়ে ১৯ পয়েন্ট। আবার কেউ কেউ ১৭ বা ১৮ পয়েন্ট থাকার শর্ত দিয়েছে। সাধারণত কেউ কোনো বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেলে ওই বিষয়ে এ+ মার্কস ৫ পয়েন্ট অর্জন করে। উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান থেকে পাস করা অনেকেই এই শর্ত পূরণ করতে পারলেও শর্টলিস্টের কারণে বড় অংশই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই বাদ পড়ছে।

চলতি বছর আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছে আট লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য বিভাগে পাস করেছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৭৬ জন। এতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৪৬৪ জন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য), প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে সরকারি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ডেন্টাল ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিতে আসন রয়েছে প্রায় ২১ হাজার। জিপিএ ৫-এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত পূরণ করতে পারে বা এ গ্রেড পেয়েছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকুও এভাবে সীমিত করে ফেলায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাঁরা বলছেন, বৈধ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করে শর্টলিস্টের মাধ্যমে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াটা বৈষম্যমূলক। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেও অনেকেই বাদ পড়বে। আবেদনপত্র গ্রহণ করার পর প্রত্যেককেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভর্তীচ্ছুদের কাছ থেকে আবেদনপত্র ও ফি গ্রহণের পর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়াটা অন্যায়। আর আবেদন ফি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়াটা অবিচারের শামিল। ’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করে। আবার উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো করলেও অনেকে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। তবে সবাইকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ’


মন্তব্য