kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি’ তিন ভাইয়ের তিন দিনের রিমান্ড

সিরাজগঞ্জ ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি’ তিন ভাইয়ের তিন দিনের রিমান্ড

সিরাজগঞ্জে জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির সদস্য তিন সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সলঙ্গা উপজেলার হাটিকুমরুল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিন দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গত এপ্রিলে বগুড়ার শেরপুরের একটি বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে তাদের আরেক ভাই মারা গেছে। ওই বিস্ফোরণে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার ফারদিনও নিহত হয়।

গ্রেপ্তারকৃত এই তিন ভাই হলো সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জামুয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মো. সানাউল্লাহ (৪৮), লিয়াকত উল্লাহ (৩৮) ও মো. বরকতুল্লাহ (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে মামলা রয়েছে।

এদিকে গত সোমবার গভীর রাতে নেত্রকোনা শহরের আনন্দবাজারের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ চার হিযবুত তাওহীদ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

এই চারজন হলো শেরপুরের বাগরাকসা গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে হিযবুত তাওহীদের নেত্রকোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির মো. মনিরুজ্জামান (৩৩), তার স্ত্রী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আড়াইআনি এলাকার আব্দুল হেলিমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার সুমী (২৩), একই উপজেলার রাজনগর গ্রামের মৃত আনারুল হকের মেয়ে পারুল আক্তার (২৩) ও শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার কাচিকাটা গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে সুজন হালদার (২৮)।

সিরাজগঞ্জ : জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ ওহেদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার করা তিন ভাই জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত। গতকাল সকালে তারা হাটিকুমরুলে অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।

ওসি আরো জানান, আটককৃতরা বগুড়ার একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জামিনে ছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর সলঙ্গার এরান্দহ থেকে জেএমবির এক স্থানীয় নেতাসহ চারজনকে বিস্ফোরক ও জিহাদবিষয়ক বইসহ আটকের ঘটনায় করা মামলায়ও এই তিন ভাই আসামি। ওই দিন পুলিশের অভিযানের সময় তারা পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জুয়ানপুর কুঠিবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে নিহত দুজনের মধ্যে তরিকুল ইসলাম তাদের ভাই। তার ব্যাগে পাওয়া বড় ভাই কুদরত উল্লাহর পাসপোর্টের সূত্র ধরে তরিকুলের পরিচয় জানা যায়। ওই সময় তার পরিবারের চার সদস্যকে আটক করা হয়। কুদরত উল্লাহ আট বছর আগে জেএমবির অন্তর্দ্বন্দ্বের জের ধরে নিহত হয় বলে তখন পুলিশ জানায়। অন্যদিকে তরিকুল ২০০৫ সালে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও পরে খালাস পায়। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে জুয়ানপুর কুঠিবাড়িতে আস্তানা গাড়ে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার ফারদিন। বিস্ফোরণে তরিকুলের সঙ্গে সেও নিহত হয়। পরে ওই বাড়ি থেকে ২০টি গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তরিকুলের গ্রামের লোকজন জানায়, তাদের পরিবারটি জঙ্গি তত্পরতায় আগে থেকেই জড়িত।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, হিযবুত তাওহীদের চার সদস্যের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদবিষয়ক বই উদ্ধার করা হয়েছে। তারা চার বছর ধরে নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে বজ্রশক্তি নামে একটি দৈনিক পত্রিকা বিক্রি করে আসছিল। পুলিশ কর্মকর্তা জনান, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে হিযবুত তাওহীদের নেত্রকোনা জেলার আমির মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শেরপুরে সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। সুজন হালদারের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি আছে। পারুল আক্তারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সে পাঁচ বছর আগে ‘আল্লাহর রাস্তায়’ বের হওয়ার কথা বলে বাড়ি ছাড়ে।


মন্তব্য