kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জিডি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি

খুলনা অফিস   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলার ঘটনার দুই দিন পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। আহত শিক্ষার্থীরা এখনো ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেনি।

এ ছাড়া নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে এক ছাত্রলীগ নেতা নিজ সংগঠনের সভাপতিসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হামলাকারীদের বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে।

গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হল কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মারধর করে। পরে দুটি ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের হামলা, ক্যাম্পাসে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, গার্ড, ডাইনিং বয়সহ ১০ জন আহত হয়।

এই হামলার জন্য ছাত্রলীগের দুই পক্ষ একে অন্যকে দায়ী করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মুন্সী আশিকুজ্জামান কমল সোমবার রাতে বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করেছেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত হোসেন নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস, সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান সজিব ও সহসভাপতি আদিশ চাকমা।

মাদক ও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের লোক অনুপ্রবেশ করার বিরোধিতা করায় তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন কমল। খানজাহান আলী থানার ওসি আশরাফুল আলম জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে ই-মেইল করেছেন। এতে বলা হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবি মেনে নেওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। অবশ্য গতকাল মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক ক্লাস হয়নি।

বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ফিরোজ ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো ভয়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাস ছাড়ছে। আমরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. সোবহান মিয়াকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য