kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বগুড়ায় আজ আত্মসমর্পণ করবে চার জেএমবি জঙ্গি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বগুড়ায় আজ আত্মসমর্পণ করবে চার জেএমবি জঙ্গি

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) কয়েক শ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের বেশির ভাগই দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আত্মগোপনে রয়েছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে।

আত্মসমপর্ণের মাধ্যমে এসব জঙ্গি সদস্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবের একাধিক টিম ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। বগুড়ায় একাধিক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে খানিকটা সফলতাও পেয়েছে র‌্যাব। জেএমবির মাঠ পর্যায়ের চার সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে রাজি হয়েছে। আজ বুধবার তাদের আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত র‌্যাবের পক্ষ থেকে ওই চারজনের বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি। মুফতি মাহমুদ খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, জেএমবির অন্তত চার সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলে কথা দিয়েছে। বগুড়া জেলা সদরে (পুলিশ লাইনে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিতিতে তারা আত্মসমর্পণ করবে। পর্যায়ক্রমে আরো অনেক জঙ্গি সদস্য এ প্রক্রিয়ায় সাড়া দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যশোরসহ আরো কয়েকটি জেলায়ও ইতিমধ্যে কয়েকজন জঙ্গি আত্মসমর্পণও করেছে। যশোরেই তিন দফায় আত্মসমর্পণ করেছে সাতজন।   

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ছাড়াও র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।  

মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে জেএমবিসহ অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যাপক অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাতে জঙ্গিবাদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণেও আসে। পুরোপরি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও জঙ্গি সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সে লক্ষ্যে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা এ সুযোগ নেবে তাদের দেখভাল করবে র‌্যাব। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়ায় বরাবরই জেএমবি বেপরোয়া। ঢাকায় যেমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম) ও হিযবুত তাহ্রীর সক্রিয়, তেমনি বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে জেএমবি। এর আগে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শীর্ষ পর্যায়ের অনেক জঙ্গি নেতা ধরা পড়েছেন। কিন্তু শুধু জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করেই জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বগুড়ায় অনেক জঙ্গি সদস্যের অভিভাবক তাদের (জঙ্গিদের) স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব পরিবারের পক্ষ থেকে র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জেএমবি সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানায়। র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয়ভাবে জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।


মন্তব্য