kalerkantho


‘ভুয়া নামে নেওয়া ফোনে কথা বলেন নূর হোসেন’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ভুয়া নামে নেওয়া ফোনে কথা বলেন নূর হোসেন’

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় গতকাল সোমবার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে চতুর্থ দিনের মতো জেরা করেছেন আসামির আইনজীবীরা। এদিন মামলার প্রধান আসমি নূর হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে নারায়ণগঞ্জের তখনকার র‌্যাব কর্মকর্তাদের কথোপকথন বিষয়ে তদন্তকারীকে জেরা করা হয়।

জেরায় উঠে আসে যে মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে নূর হোসেন কথা বলেছেন, সেটা এক নারীর নামে কেনা ছিল। ওই নারীর ঠিকানা ও পরিচয় ভুয়া বলে তদন্তে জানা গেছে।

গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে জেরা করেন নূর হোসেনের আইনজীবী।

নূর হোসেনের পক্ষে অসমাপ্ত জেরা শেষ করেন তাঁর আইনজীবী খোকন সাহা। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া খোকন সাহা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাাদকও।

জেরায় উঠে আসে ঘটনার সময় নূর হোসেনের ব্যবহৃত ওয়ারিদ, যা বর্তমানে এয়ারটেল নম্বরটি জনৈক নাজমা বেগমের নামে নিবন্ধন করা। অভিযোগপত্রে র‌্যাবের মেজর (অব.) আরিফ হোসেনের সঙ্গে ২৭ বার কথোপকথনের বিষয়টি উল্লেখ আছে। নূর হোসেনের আইনজীবী তদন্তকারীর কাছে জানতে চান যে এই কথোপকথনের কোনো অডিও টেপ আছে কি না।

তখন তদন্ত কর্মকর্তা না-সূচক উত্তর দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হয় অভিযোগপত্রে নূর হোসেনের সঙ্গে র‌্যাবের কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনের যে বিষয়গুলো আছে তার কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে কি না। উত্তরে নেই বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ সদস্য নূর হোসেনের নাম বলেননি এমন কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া নূর হোসেনের সহযোগী গোলাম মর্তুজা চার্চিল, রহম আলী, আলী মাহমুদ কেউ তাঁর কর্মচারী এমন কোনো প্রমাণাদি নেই বলেও জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল রাত ১০টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত আরিফ হোসেন ২৭ বার নূর হোসেনকে ফোন করে কথা বলেছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নূর হোসেন ১২ বার ফোন করেছেন আরিফকে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে জেরা করা হয়। এ সময় নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানাসহ ২৩ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। নূর হোসেন ছাড়াও অন্য আসামি র‌্যাব সদস্য পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পূর্ণেন্দু বালার পক্ষে তাঁর আইনজীবী আহসানউল্লাহ জেরা করেন। এর আগের তিনটি ধার্য দিনে তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানার পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি সাত খুনের মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে আদালতে আসামিদের রাখার কাঠগড়ার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগের দিন জেরার সময় সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা এম এম রানাসহ অন্যরা ছোট আকৃতির কাঠগড়ায় ২৩ আসামির দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভের কথা জানান। এ ছাড়া খাবার নিয়ে সেখানে নূর হোসেনের সঙ্গে র‌্যাবের হাবিলদার এমদাদ হোসেনের হাতাহাতি হয়।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক সোহেল আলম জানান, অনেক মামলায় কাঠগড়ায় অতিরিক্ত আসামি হলে গাদাগাদি করে রাখা হয় সে কারণেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে।


মন্তব্য