kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মহাসড়কে পণ্য পরিবহন

ট্রেইলারের চাকা বাড়াতে অনীহা মালিকদের

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ট্রেইলারের চাকা বাড়াতে অনীহা মালিকদের

চট্টগ্রাম-ঢাকা চার লেন মহাসড়কে চাকা বাড়িয়ে ট্রেইলারে বেশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ সুযোগ নিতে চান না গাড়ির মালিকরা।

তাঁরা বলছেন, এ প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল।   

বর্তমানে ১৪ চাকার একটি ট্রেইলার জরিমানা ছাড়া ৩৩ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করতে পারে। চাকার সংখ্যা মাত্র চার বাড়ালেই ৩৮ টন এবং আরো বাড়িয়ে ২২ চাকা করলে ৪১ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।

প্রায় পৌনে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পণ্য পরিবহনে এ সুবিধা দিয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে গত ১৬ আগস্ট।

কিন্তু প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার মালিক ও শ্রমিকরা এর বিরোধিতা করে জরিমানা ছাড়া বেশি পণ্য পরিবহনের দাবি তোলে। দাবি আদায়ে তারা গত সোমবার থেকে টানা চার দিন ধর্মঘট করে। এতে রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের ধাক্কা খায়। বন্দরে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ৪০ হাজারের বেশি কনটেইনার জমে যায়। পর্যাপ্ত পণ্য না নিয়েই বন্দর ছেড়ে যেতে হয় বেশ কয়েকটি জাহাজকে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করে গাড়ির মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের সংগঠন চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এদিন পর্যন্ত ১৪ চাকার ট্রেইলারে ৪২ টন পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার শর্তে ধর্মঘট স্থগিত করতে রাজি হয়। একই দিন আজ মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

চাকা বাড়িয়ে বেশি পণ্য পরিবহন নিয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম-ঢাকা চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক প্রকৌশলী অরুণ আলো চাকমার সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মহাসড়কটিতে একসঙ্গে ৪৪ টন পণ্য পরিবহন করা সম্ভব, সেখানে চাকা থাকতে হবে ২৬টি। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ২৬টি চাকা থাকলে ৪৪ টনের ভার সব চাকার ওপর বিভাজিত হবে। অর্থাৎ এক স্থানে চাপ না পড়ে পুরো সড়কেই চাপটা পড়বে। এতে সড়কের ক্ষতি হবে না। কিন্তু যদি ৪৪ টন পণ্য ১৪ চাকায় পরিবহন করা হয়, তাহলে ভারটা ছোট্ট একটি স্থানে পড়ায় সড়ক দেবে যাবে।

এই প্রকৌশলী বলেন, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১০ বছর স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে মহাসড়কটি নির্মিত হয়েছে। এখন গাড়ির চলাচল বা প্রবৃদ্ধি যদি এর চেয়ে বেশি হয় এবং কম চাকায় অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করা হয় তাহলে আগেই সড়কটির স্থায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।

জানা গেছে, দেশের মহাসড়ক ও সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত ১৬ আগস্ট প্রজ্ঞাপন দিয়ে গাড়িভেদে পণ্য পরিবহনের সীমা বেঁধে দেয়। এর মধ্যে ছয় চাকার গাড়িতে ১৫ টন, ১০ চাকায় ২৫ টন, ১৪ চাকায় ৩৩ টন, ১৮ চাকায় ৩৮ টন, ২২ চাকায় ৪১ টন ও ২৬ চাকার গাড়িতে সর্বোচ্চ ৪৪ টন পণ্য জরিমানা ছাড়া পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রান্ত হলেই গাড়িগুলোকে স্তরভেদে দুই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বন্দর থেকে যেসব কনটেইনার পরিবহন হয় সেগুলোর বেশির ভাগই ১৪ চাকার গাড়িতে। চাকা বাড়িয়ে বর্তমানের মতো পণ্য পরিবহন করতে হলে ব্যয় বাড়বে। এর বিপরীতে লাভ হবে কম। তবে মালিকরা চাইলে সেটি করতে পারেন। ’ তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী আছেন যাঁরা শুল্ক ফাঁকি দিতে কাগজে-কলমে পণ্যের কম ওজন ঘোষণা দিয়ে বেশি পণ্য নিয়ে আসেন। সেই কনটেইনার পরিবহন করতে ওজন স্কেলে গিয়ে গাড়ির মালিকরা বিপাকে পড়েন। জরিমানা গুনতে হয় তাঁদের।


মন্তব্য