kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএমএর সংবাদ সম্মেলন

নিরাময় অযোগ্য রোগে ৬ লাখ মানুষ মৃত্যুশয্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল ও অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় আছে দেশের প্রায় ছয় লাখ মানুষ। তাদের ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি বা প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া সম্ভব।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ আয়োজিত প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান।

তাঁরা বলেন, উন্নত বিশ্বে রোগীকে ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তির প্রক্রিয়াটি অনেক দূর এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে তা চলছে খুবই ধীরগতিতে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে আরো এগিয়ে আসা জরুরি। সেই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে বিশেষ আইনগত কিছু বাধাও দূর করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

আগামী ৮ অক্টোবর বিশ্ব হসপিস্ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএমএর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের  সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, আরোগ্য অযোগ্য রোগের সম্মুখীন মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের কষ্ট যন্ত্রণা কমানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রক্রিয়াই প্যালিয়েটিভ কেয়ার (প্রশমন সেবা) নামে পরিচিত। চিকিৎসা ও সমাজবিজ্ঞানে এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে এ বছর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এশিয়া প্যাসিফিক হসপিস্ অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার নেটওয়ার্ক, ওয়ার্ল্ড চাইল্ডহুড ক্যান্সার ও বাংলাদেশের অন্যান্য উৎসাহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশব্যাপী ‘বিশ্ব হসপিস্ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস’ উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ব্যথাপূর্ণ জীবন এবং ব্যথাসহ মৃত্যু : কোনোটিই কাম্য নয়’।

অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুরারোগ্য ক্যান্সার এবং এ ধরনের রোগে আক্রান্ত পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ রোগীই তাদের জন্য স্বীকৃত নিরাপদ আদর্শ ব্যথানাশক ওষুধ—মুখে খাবার ‘মরফিন’ না পেয়ে অসহনীয় ব্যথা নিয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করে। ব্যথা নিয়েই তারা মৃত্যুবরণ করে। অন্যান্য দেশে যেসব রোগীর জন্য গড়ে প্রতি ডোজ ব্যবহৃত হয় ছয় মিলিগ্রাম মরফিন, সেখানে বাংলাদেশের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয় গড়ে দশমিক শূন্য পাঁচ মিলিগ্রাম। এই অবস্থার উন্নতির জন্য যথাযথ আইন সংশোধন ও পরিবর্তন, চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, মানবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ওষুধ কম্পানিগুলোকে একই জাতীয় দামি ওষুধগুলোর পরিবর্তে সস্তায় মরফিন তৈরিকে উৎসাহিত করা জরুরি।


মন্তব্য